ওষুধ নয়, বিষ খাচ্ছেন! অ্যাসিডিটি, কোলেস্টরল, ডায়াবেটিসের ওষুধে চরম বিপদ, গুণমান পরীক্ষায় ফেল ৪৮টি ওষুধ!

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু যদি ওষুধই হয়ে ওঠে ক্ষতির কারণ, তাহলে কী হবে? সাম্প্রতিককালে বারবার উঠে আসছে ওষুধ জালিয়াতির ঘটনা। কখনও দেখা যাচ্ছে, ওষুধের কার্যকারিতা নেই, আবার কখনও রয়েছে ভেজাল উপাদান। এই ধরনের নিম্নমানের ওষুধ সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, নিম্নমানের ওষুধের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে একটি বড় সমস্যা। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে তো বটেই, উন্নত দেশেও মাঝেমধ্যেই নিম্নমানের ওষুধের খোঁজ মিলছে। মূলত উৎপাদনের সময় ওষুধে যদি যথাযথ পরিমাণ সক্রিয় উপাদান না থাকে বা অবৈধভাবে ওষুধ বাজারে ছাড়া হয়, তাহলেই তা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, ভেজাল ওষুধ রোগ সারানোর বদলে আরও মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

এমন অবস্থায় ওষুধের গুণগত মান নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাজারে প্রচলিত বহু ওষুধ পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে, তার গুণমান যথাযথ নয়। ফলে রোগ নিরাময়ের বদলে আরও নতুন জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু সমস্যাটি এখানেই শেষ নয়। অনেক সময় নিম্নমানের ওষুধ দীর্ঘদিন বাজারে বিক্রি হলেও তদারকির অভাবে তা ধরা পড়ে না। যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি মাঝেমধ্যেই পরীক্ষার মাধ্যমে এই ওষুধগুলোর খোঁজ করছে, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতেই এবার বড়সড় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল কেন্দ্রীয় সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাসিডিটি, কোলেস্টরল ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারে বিক্রি হওয়া ৮৪টি ওষুধ নিম্নমানের ও স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ওষুধগুলি গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং দ্রুত বাজার থেকে তুলে নেওয়া দরকার। শুধু তাই নয়, এই ওষুধ রপ্তানির উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে কোন কোন সংস্থার ওষুধ এই তালিকায় রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ সরকারি জমি দখল ঠেকাতে গিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরকে মারধর! জামা ছিঁড়ে চরম অপমান!

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে CDSCO-র পরীক্ষায় ৫৩টি ওষুধ বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত হয়েছিল। সেখানে প্যারাসিটামল, ক্ল্যাভাম ৬২৫-এর মতো পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক ও প্যান-ডির মতো বহুল ব্যবহৃত হজমের ওষুধও ছিল। এবার আরও বেশি সংখ্যক ওষুধ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিদিন যে ওষুধ খেয়ে রোগীরা সুস্থ হতে চাইছেন, সেগুলিই যদি গুণগত মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে স্বাস্থ্য কতটা সুরক্ষিত?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles