তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন সিপিএমের হাতিয়ার! ভোটের আগে কি বদলাচ্ছে রাজনীতির সমীকরণ?

পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) মহিলাদের জন্য সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ২০২১ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের গৃহস্থ ও প্রান্তিক মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তৃণমূল সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, এটি মূলত ভোট টানার কৌশল। প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির আওতায় এখনও বহু গরিব মহিলা রয়েছেন, যাদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছায়নি। রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সব সময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর। সিপিএমের আমলে যেমন কংসাবতী সেচ প্রকল্প, ভূমি সংস্কার কর্মসূচি ছিল, তেমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী মতো প্রকল্পগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই প্রকল্পগুলি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটাচ্ছে বলে তৃণমূলের দাবি। তবে বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, এইসব প্রকল্প জনকল্যাণের নামে ভোটের রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয়।

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বক্তব্য, সিপিএম ও তৃণমূল আদতে এক। অতীতে বামপন্থীরা সরকারি প্রকল্পকে ভোট টানার কৌশল বলে কটাক্ষ করলেও এখন তারাই এই প্রকল্পের প্রচারে নেমেছে। বিজেপির দাবি, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে জনগণকে তাদের পাশে আসতে হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ও সিপিএম দু’দলই সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যাকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ব্যস্ত।

সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএম একটি কর্মশালা আয়োজন করে, যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী-র মতো প্রকল্পগুলির তথ্য বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। সিপিএম নেতারা জানান, সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে জানেন না। তাই তারা একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন, যেখানে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা ও আবেদনের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, প্রকল্পগুলির অর্থ সরকারি তহবিল থেকে আসে, এটি কোনও নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয়।

আরও পড়ুনঃ ওষুধ নয়, বিষ খাচ্ছেন! অ্যাসিডিটি, কোলেস্টরল, ডায়াবেটিসের ওষুধে চরম বিপদ, গুণমান পরীক্ষায় ফেল ৪৮টি ওষুধ!

এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা বিজয় পাল বলেন, প্রকল্পগুলির সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো উচিত। তিনি জানান, “এই প্রকল্পগুলো কোনো দলের নয়, সরকার পরিচালিত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। তৃণমূল যেভাবে এগুলোর প্রচার করে, সাধারণ মানুষ সেটি বুঝতে পারেন না। তাই আমাদের দায়িত্ব প্রকল্পগুলির সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শঙ্কর গুচ্ছাইতের কটাক্ষ, “সিপিএম এখন তৃণমূলের প্রকল্প প্রচার করছে! আসলে, তৃণমূল ও সিপিএম একসঙ্গে কাজ করছে, এটা বোঝাই যাচ্ছে।” তবে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সিপিএমের এই নতুন উদ্যোগ তাদের অতীত ব্যর্থতারই প্রমাণ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles