West Bengal assembly 2026 : নির্বাচনের মুখে রাজ্য পুলিশে ফের বড় রদবদল! ২ এডিজি, ৪ সিপি ও ১২ এসপি সরিয়ে নতুন নিয়োগ,—কমিশনের পদক্ষেপে চাপে রাজ্য সরকার, তবে কি প্রশাসনের অন্দরে আগেই জমছিল নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন?

ভোট যত এগিয়ে আসে, প্রশাসনের ভেতরে ততই নড়াচড়া বাড়ে—এ যেন বহুদিনের চেনা ছবি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি যেন একটু অন্যরকম। একের পর এক পদে বদলি, বড় বড় অফিসারদের সরানো—সব মিলিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তির আবহ। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা, ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন?

সোমবার রাতেই রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে সরানোর সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও বড়সড় পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশন এক ধাক্কায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনে। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে স্পষ্ট, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।

এই রদবদলের প্রভাব পড়েছে কলকাতার পুলিশ ব্যবস্থাতেও। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরানো হয়েছে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথরাওকে। শুধু তাই নয়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কমিশনারেট—আসানসোল-দুর্গাপুর, হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগর—সব ক’টিতেই নতুন কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে গোটা প্রশাসনিক কাঠামোতেই একপ্রকার নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে জেলা স্তরে। একসঙ্গে ১২টি জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বারাসত, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, হুগলি (গ্রামীণ), ইসলামপুর ও বসিরহাট। বিভিন্ন জেলায় নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন সূর্যপ্রতাপ যাদব, জসপ্রীত সিংহ, পুষ্পা, ঈশানী পাল, সচিন, অলকানন্দা ভাওয়াল, অনুপম সিংহ, অংশুমান সাহা, পাপিয়া সুলতানা, সুরিন্দর সিংহসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে নতুন এডিজি হিসেবেও নিয়োগ হয়েছে রাজেশকুমার সিংহ ও কে জয়ারামনের।

আরও পড়ুনঃ “আমতলা, জামতলা, কেওড়াতলাতেও নেই আমি!” ২৬-এর বিধানসভার প্রার্থী তালিকায় নেই নাম, তৃণমূলে যোগের জল্পনা খারিজ! গায়িকাই থাকতে চান, সাফ জানালেন ইমন চক্রবর্তী! 

এই ধারাবাহিক বদলিকে ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। অতীতে যেখানে প্যানেল পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার প্রথা ছিল, এবার তা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ। তবে সেই আপত্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশনের নতুন নির্দেশ জারি হওয়ায় স্পষ্ট—নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে কমিশন।

Khabor24x7

আমি শুভ, সঠিক খবর পরিবেশনের ইচ্ছায় হঠাৎই এই নিউজ পোর্টালটি শুরু করি। ধীরে ধীরে এরপর নিউজ পোর্টালটিতে আরও একাধিক ব্যাক্তি যুক্ত হন। এখন আমি নিউজ পোর্টালটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। এছাড়াও বিনোদন, কর্মক্ষেত্র, এবং অফবিট বিভাগে লিখতে পছন্দ করি। Email - info@khabor24x7dotcom.wpcomstaging.com

আরও পড়ুন

RELATED Articles