ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে সিকিম ও কালিম্পংয়ের একাংশ, বড় আশঙ্কার খবর শোনালেন বিশেষজ্ঞরা, কেন এমন বলছেন তারা?

মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সিকিমের পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভেসে গিয়েছে লোনক হ্রদ। ইসরো থেকে যে উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে লোনক হ্রদ বেলুনের মতো চুপসে গিয়েছে। ফের কোনও বিপর্যয় হলে ভারতের মানচিত্র থেকে সিকিম ও কালিম্পং ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েকটি উপগ্রহ চিত্র কার্যত ঘুম উড়াল প্রশাসন ও সেনার। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা।

চুপসে গিয়েছে লোনক হ্রদ

সূত্রের খবর, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লোহনক হ্রদের পরিমাণ ছিল ১৬২.৭ হেক্টর। ২৮ সেপ্টেম্বর লোহনক হ্রদের পরিমাণ ছিল ১৬৭.৪ হেক্টর। কিন্তু ৪ অক্টোবর বুধবার অর্থাৎ বিপর্যয়ের দিন মেঘ ভাঙার বিপর্যয়ের পর এই হ্রদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২.৫ হেক্টর। বিপর্যয় হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হ্রদের ১০৫ হেক্টর জায়গা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে বলে খবর।

ইসরোর এই তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে আগামীদিনে ফের এমন কোনও বড় বিপর্যয় যদি ঘটে, তাহলে সিকিমের একাংশ ও কালিম্পংয়ের গোটা এলাকাই ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যেতে পারে মানচিত্র থেকে। ভারতীয় সেনাকে এমনই সতর্কবার্তা দিল ইসরো। এর জেরে বেশ চিন্তায় সকলেই।

কী জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রধান রঞ্জন রায় এই বিষয়ে জানান, হ্রদের আকার কমেছে মানেই বিপদের আশঙ্কা বাড়ল। কারণ হ্রদের আকার কমলে তার জলধারণ ক্ষমতাও কমে যাবে। হিমবাহের জলে যে সমস্ত হ্রদ পুষ্ট হয়, সেই সব হ্রদ আয়তন পাল্টাতে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে বরফ গলে গেলে হ্রদের আয়তন ছোটো হয় আর বরফ থাকলে হ্রদের আয়তন বেড়ে যায়।

তাঁর কথায়, এই এলাকায় হিমালয় নবীন। একদিকে বিশ্বজুড়ে উষ্ণায়ন ও উন্নতির জেরে টানেল খনন, বাঁধ নির্মাণ, বহুতল নির্মাণ, যানবাহনের চাপের জেরে এমনিতেই এখানকার মাটি ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। লেকের বিস্তীর্ণ এলাকা যেভাবে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে, সেভাবেই আরও এক বিপর্যয় যদি আসে তাহলে সিকিমের একাংশ ও কালিম্পংও ধুয়েমুছে যেতে পারে মানচিত্র থেকে। সমস্ত হিমবাহ ও হ্রদে নিয়মিত নজরদারি দরকার বলে মত রঞ্জনবাবুর। অত্যধিক মাত্রায় যদি জল ও বরফ বাড়তে থাকে, তাহলে সাকশন করে হ্রদের চাপ কমাতে হবে।

এই বিষয়ে ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল ও ট্যুর হসপিটালিটি নেটওয়ার্কের তরফে সম্রাট সান্যাল জানান, “উন্নয়ন আর প্রকৃতির ব্যালেন্স দরকার। এটাই শিক্ষা। উত্তরাখণ্ড, হিমাচলের পর এবার সিকিম। উপযুক্ত পদক্ষেপ হোক। পাশাপাশি হ্রদের চাপ কমাতে প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবস্থা না হলে সমূহ বিপদ”।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles