তিস্তার চরে ভেসে এল ৯ ফুট লম্বা ক্ষতবিক্ষত পাইথন, জরুরি অপারেশন করে সুস্থ করার চেষ্টা, পড়ল ২০টি সেলাই

গত কয়েকদিনের বৃষ্টির জেরে সিকিমের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে ভেসে গিয়েছে একাধিক এলাকা। তিস্তাতে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর জলস্তর কিছুটা নামার জেরে একের পর এক দেহ ভেসে আসছে তিস্তার পাড়ে। এবার ভেসে এল এক ৯ ফুট লম্বা পাইথন।

তিস্তার এমন ভয়াল রূপের জেরে উদ্বিগ্ন সকলেই। বন্যার পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গে। একাধিক মানুষের সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে বন্যপ্রাণীদেরও। এরই মধ্যে ভেসে আসে এক বিশালদেহী পাইথন। শরীরে একাধিক ক্ষত ছিল তার। গতকাল, শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মণ্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েতের তাঁতি পাড়া এলাকায় দেখা যায় ওই পাইথনকে।

সেখানকারই এক বাসিন্দা পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে ফোন করে জানান, তিস্তা নদীর চরে একটি পাইথন চাপা পড়ে আছে। সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। খবর পেয়ে ছুটে যান বিশ্বজিৎবাবু। তিস্তার বাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার জল কাদা পেরিয়ে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ওই পাইথনের অস্ত্রোপচার চলে। ২০টি সেলাই পড়েছে তার। আপাতত সুস্থই রয়েছে পাইথনটি, এমনটাই জানা গিয়েছে।

কী জানালেন পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী?

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “খবর পেয়ে আমি আর দেরি করিনি। গিয়ে দেখি প্রায় নয় ফুট লম্বা বার্মিজ পাইথনটির গায়ে তার পেঁচিয়ে থাকায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সাপটিকে উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে আসি। ডাক্তারবাবু প্রথমে ভালভাবে ওয়াশ করেন। এরপর তার শরীরের ক্ষতস্থানে একের পর এক সেলাই দিতে থাকেন। তারপর প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। কিছুক্ষণ পর সাপটি চিকিৎসায় সাড়া দেয়। এরপর আমি সাপটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেই”।

চিকিৎসকের কী বক্তব্য?

জলপাইগুড়ি প্রাণী হাসপাতালে সাপের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক রাজেশ্বর সিং জানান, “অজগর সাপটি বন্যার জলে ভেসে এসেছে। কোথাও খোঁচা খেয়েছিল। পেটের কাছে পেশিতে আঘাত লেগেছে। আমরা দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই। ওখানটায় সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত সুস্থ আছে। সাপ খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। মোটামোটি ৩ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবে”।

RELATED Articles