রাস্তার ধারের নর্দমা পরিস্কার করতেই বেরিয়ে এল বস্তা বস্তা ভোটার কার্ড। শুধু ভোটার কার্ডই নয়, এর সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ রেশন কার্ড ও খাদ্যসাথীর কুপনও। স্থানীয় এক পুজো কমিটি নর্দমা পরিস্কার করতে গিয়েই এই বস্তাগুলি উদ্ধার করে। পুলিশ এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় এক পুজো কমিটির উদ্যোক্তা এই বিষয়ে বলেন, “ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে এলাকার অনেকে শনিবার সকালে দেখতে পান ড্রেনের মধ্যেই কয়েকটা বস্তা পড়ে রয়েছে। সেই বস্তাগুলি কোথা থেকে এসেছে তা কেউ জানে না। বস্তার মধ্যে একাধিক পরিমাণে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড পাওয়া গিয়েছে। কে বা কারা এই কাজ করেছে জানা নেই। চাই দোষীরা ধরা পড়ুক”।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “সকালে আমরা দেখতে পাই ড্রেন ওভারফ্লো করে পুরো জল থইথইও। স্ল্য়াব সরিয়ে দেখা যায় ড্রেনে জমে রয়েছে প্রচুর কাগজ। পরে দেখা যায় ওগুলো সবই ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড। শুনেছি আরও অনেক দরকারি কাগজ পাওয়া গিয়েছে। কে বা কারা এই কাগজ ফেলেছে জানা নেই। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এসে গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখছে”।
অশোকনগর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার-পাঁচ বস্তা ভর্তি ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও খাদ্য সুরক্ষার কুপন পাওয়া গিয়েছে। এগুলির বেশিরভাগই বাগদা ও হেলেঞ্চা ব্লকের। কী করে এই এত ভোটার কার্ড বা কুপন এল, তা খতিয়ে দেখা দেখছে পুলিশ। তাদের অনুমান কোথাও হয়ত বড় কোনও জালচক্র কাজ করছে।
তবে এই প্রথমবার নয়, কিছুদিন আগেও অশোকনগরেই এক ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির সংস্থার কথা জানা যায়। সেই সংস্থার মালিক ও তাঁর দুই সহকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুয়ারে সরকার প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই নানান জায়গা থেকে এমন ভুয়ো পরিচয়পত্রের খোঁজ মিলেছে। অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে তা ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীর জলে বা ড্রেনে। এই জাল নথি কিভাবে তৈরি হচ্ছে আর কিভাবেই বা তা পাচার হচ্ছে, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।





