ভারতে ধর্মীয় বিষয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ তদন্ত চলার মধ্যেই হঠাৎ করে এমন এক মন্তব্য উঠে এসেছে, যা আবারও জাতীয় স্তরে বিতর্ক জাগিয়েছে। দেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থান, সরকারি ব্যবস্থার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, এই বক্তব্য কি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভ, নাকি বাস্তব কোনও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন?
জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি অভিযোগ তুলেছেন, দেশে মুসলিমদের ওপর পরিকল্পিতভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “সরকার চায় না ভারতের মুসলিমরা মাথা তুলুক।” বিদেশে মুসলিম রাজনীতিকদের উচ্চপদে পৌঁছানোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে যে মুসলিমরা সম্মানজনক অবস্থানে উঠতে চেষ্টা করেন, তাঁদের হয়রানি বা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কথাও উল্লেখ করেন।
আরও কয়েকটি উদাহরণ সামনে আনেন মাদানি। তাঁর বক্তব্য, দেশে একজন মুসলিম যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও হন, তবুও তাঁকে টার্গেট করা হয়। আজম খানের ঘটনাকে তিনি সেই অভিযোগের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ধরনের তদন্তকে ব্যবহার করে মুসলিম সমাজকে দুর্বল রাখার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা কখনও ‘মাথা তুলে দাঁড়াতে’ না পারে।
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিজেপি নেতা ইয়াসির জিলানি মাদানির অভিযোগকে “বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত মুসলমানদের জন্য বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ জায়গা এবং হিন্দুরা তাদের সেরা বন্ধু। আজম খানসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইনি লঙ্ঘনের ভিত্তিতে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আজম খান ও তাঁর ছেলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। বিজেপি নেতা মহসিন রাজাও অভিযোগ করেন, মাদানি পরিবার মুসলিম সমাজকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে।
আরও পড়ুনঃ “হিন্দু নামের আড়ালে লাখো বাংলাদেশি ভোটার? মুর্শিদাবাদে ২.৬৮ লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়েছে”—দাবি বিজেপির! তৃণমূল কি সত্যিই ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে বিশাল খেলা খেলছে?
কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ প্রকাশ্যে মাদানির বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের শাসনে মুসলিমদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে এবং আইনের নামে একপেশে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে উদিত রাজ বলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হোক, কিন্তু পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন দোষী করা হবে?” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। এখন দেখার, এই বিতর্কের জেরে দেশে ধর্ম ও রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।





