CAA নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য, মিথ্যে প্রচার, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের থানায়, গ্রেফতার হবেন পুলিশমন্ত্রী?

গত সোমবার দেশে কার্যকর হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএএ। ২০১৯ সালে এই বিল পাশ হলেও এবার লোকসভা ভোটের আগে তা কার্যকর হয়েছে। প্রথম থেকেই এই বিল নিয়ে বিরোধিতা করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই আইন কার্যকর হওয়ার পরও এর বিরোধিতায় মুখ খুলেছেন তিনি এবার তাঁর সেই মন্তব্যের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক ব্যক্তি।

কী অভিযোগ করা হয়েছে মমতার বিরুদ্ধে?

সিএএ কার্যকর হওয়ার পর হাবড়ায় এক প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই নানান মন্তব্য করেন তিনি সিএএ নিয়ে। তাঁর কথায়, এই সিএএ আসলে নাগরিকত্ব দেওয়া নয়, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন। আর তাঁর এহেন মন্তব্যের জেরেই চোটে যান মতুয়াদের একাংশ। তাঁর এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর।

জানা গিয়েছে, বাগদা থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন গোপাল গোয়ালি নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিজগপত্রে জানিয়েছেন, গত ১২ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিশিয়াল পেজ থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সিএএ নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে।

ওই ব্যক্তির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি কীভাবে এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তুলেছেন ওই অভিযোগকারী। মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন তিনি।

কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

হাবড়ার এক প্রশাসনিক সভায় সিএএ নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, বিজেপি নির্বাচনের আগে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছে। সিএএ-র জন্য আবেদন করলেই অনুপ্রবেশকারী হয়ে যেতে হবে, এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এমনকি সম্পত্তি হারানো, সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতে হবে বলেও দাবী করেছিলেন মমতা। তিনি বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিনই ইচ্ছা করে এই সিএএ কার্যকর করা হয়েছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে বলে দাবী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধেই দায়ের হয়েছে মামলা।

এবার সবথেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদৌ কী কোনও কড়া পদক্ষেপ নেবে পুলিশ? বিরোধী নেতানেত্রীরা কোনও মন্তব্য করলেই তাদের আটক করা হয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণে আদতে কী পুলিশমন্ত্রীকে গ্রেফতার করবে পুলিশ? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।  

RELATED Articles