২০১৮ সালের কথা, সেদিন যখন নন্দীগ্রামে শহিদ সভা আয়োজিত হয়েছিল, তখন কলকাতায় চলছিল চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন। বলিউডের তাবর তাবর তারকারা তখন কলকাতা মাতাচ্ছেন, উপস্থিত ছিলেন অনেক মন্ত্রীরাও। গত কয়েক বছরে নন্দীগ্রামে বড় কোনও নেতাকে দেখা যায়নি। কিন্তু আজ সভা, পাল্টা সভায় নন্দীগ্রাম সরগরম। আজ সকালে তেখালিতে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভায় পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একের পর তীর বিঁধেছেন শাসকদলকে। এরপর আজ বিকেলেই নন্দীগ্রামের হাজরাকোটায় রাজ্যের অন্য এক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম উপস্থিত থেকে কারোর নাম না নিয়েই তিনি হাঁক পাড়েন যে, “মীরজাফর সেদিনও ছিল, আজও আছে”। এই কথার মধ্যে দিয়ে যে তিনি সরাসরি শুভেন্দুকেই কটাক্ষ করেছেন, সে আর কারোর বুঝতে বাকি নেই।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় “দাদার অনুগামী” ব্যানারে নজর কেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কথা উঠেছে যে মেদিনীপুর-সহ জঙ্গলমহলের রাশ নিজের হাতেই রাখতে চাইছে শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গ টেনেই আজ ভরা সভায় ফিরহাদ হাকিম বলেন যে, শুধু আমি নয়, আমরা-কে নিয়ে চলতে হবে। তাঁর কথায় “আমি বড়, আমি আমি আমি, আমিত্ব নয়। আমরা বলতে হবে, আমরা সকলে মিলেই হবে শক্তি”।
এই বছর প্রথম তৃণমূলের ব্যানারে নন্দীগ্রাম দিবস পালিত হল। এদিন সাংসদ দোলা সেন এই সভায় উপস্থিত থেকে বলেন, “প্রত্যেক বছর ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকেই নন্দীগ্রামে শহিদ সভা হয় কিন্তু তা থেকে মমতা বন্দপাধ্যায়কে বাদ দেওয়া হয় না। কিন্তু এই বছর যা হল। তা এ আগে কখনও হয়নি”।
এদিন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু কোনও নাম না করেই বলেন যে, গত ১৩ বছরে কারোর নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েনি। ভোটের আগে নয়, ভোটের পরেও তো আসতে হবে। এই প্রসঙ্গের রেশ টেনে ফিরহাদবাবু বলেন যে তিনি নন্দীগ্রামকে ভোলেন নি, জীবন থাকতে কোনওদিন নন্দীগ্রামের কথা তিনি ভুলবেন না, এও স্পষ্ট করেন তিনি কারণ এই আন্দোলনই তাদের ভিত্তি।
এছাড়াও, এদিন শুভেন্দুকে আরও আক্রমণ করে ফিরহাদ হাকিম বলেন যে, “আমরা কেউ হেলিকপ্টারে আসিনি। আমরা প্রত্যেকে সিঁড়ি দিয়েই উঠেছি। আর সেই সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে আজ ফিরহাদ হাকিমকে লোক চিনত না”।
নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার চেস্তাকে রুখতে ফিরহাদবাবু বার্তা দেন “জগদ্দল পাথরের মতো সিপিএমকে আমরা হারিয়েছি। কিন্তু বিজেপি তাঁর থেকেও খারাপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করা মানে বিজেপির হাত শক্ত করা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে উত্তরপ্রদেশ বানিয়ে দেবে”। এরপর কারোর নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “যারা ভাবছেন পালে হাওয়া লাগিয়ে বিজেপির হাত শক্ত করব, তারা আসলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন”।





