গত শুক্রবার মৃত ছাত্রনেতা আনিস খানের গ্রামে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। চেয়েছিলেন আনিস খানের বাবা সালেম খানের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু আনিসের বাড়ি ঢোকার আগেই ফিরহাদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। রাস্তা অবরোধ করেন। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে ফিরহাদকে ঘিরে।
গ্রামবাসীরা দাবী জানাতে থাকেন, “৪২ দিন পর কী তাঁর চৈতন্য হল”। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে আসতে হয় ফিরহাদ হাকিমকে। এই বিক্ষোভকে বহিরাগতদের বিক্ষোভ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, “দু’চারটে চ্যাংরা আব্বাসের মিটিং থেকে ফিরছিল, তারা হইহই করছিল। অনেক সময় দেখা যায়, যে বাঘ ঘুরছে বনের কুকুর বা হায়না দূর থেকে হাউহাউ করছে। তাতে কি বাঘ ভয় পায়। এগুলো ইগনোর করতে হয়, আমিও ইগনোর করেছি”।
রামপুরহাটের বগটুই গণহত্যাকাণ্ড মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই এবার আনিস হত্যাকাণ্ডেও সিবিআই তদন্তের দাবী নিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। গতকাল, শনিবার উলুবেড়িয়া থেকে বাউড়িয়া পর্যন্ত মিছিল করে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলব যদি সততা থাকে, আনিস তদন্তে আপনি নিজে সিবিআইকে ডাকুন। আর রামপুরহাটে আমরা মনে করি, বিচারবিভাগীয় সিবিআই তদন্ত করতে হবে। আমরা আনিসকাণ্ড এখানেই ছাড়ব না। দরকার হলে, দিল্লিতে ধরনা দেব। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যাব। পার্লামেন্টে সরব হব”।
এদিকে, গত শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর দাবী করেন আনিস খানের বাবা সালেম খান। তিনি বলেন, “আমাকেও ৫ লক্ষ টাকা, দুটো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। পুলক রায়, কৌস্তভ রায় এসেছিলেন। নবান্নে যেতে বলেছিলেন। আমি যাইনি। না বলে দিয়েছে। মাথা উঁচু করেই বাঁচতে চাই। ছেলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার চাই আমি”।
এই প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “লাশ কিনতে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই বাবাকে কিনতে গেলেন ফিরহাদ, গ্রামের লোক-পরিবার বুঝিয়ে দিয়েছে, উৎসবের নামে পোশাক বদল করলে, সেই অনুযায়ী সবাই পিছন পিছন চলবে এরকম নয়”।
রাজ্যে চলতে থাকা এই বিতর্ক নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমর পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, “আন ন্যাচারাল ডেথে অনেকেই মারা গেছে, তাঁদের অনেককে সরকারের তরফে স্পেশাল ক্যাবিনেট করে চাকরি দিয়েছি, উনি যখন চান না কোনও ব্যাপার নেই, তবে কেনাকাটির কোনও বিষয় নেই”।





