দলের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার করেছে আইপ্যাক, প্রার্থীতালিকার বিভ্রান্তির দায় আইপ্যাকের উপর চাপালেন ফিরহাদ, পিকে-কে ধমক পার্থর

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এই নিয়ে গতকাল, শনিবার বিস্ফোরক দাবী করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবী, অন্যায়ভাবে দলের ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হয়েছে। পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

ফিরহাদের কথায় সকলের সম্মতি নিয়েই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। আইপ্যাকের থেকেও তালিকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবী ফিরহাদের। কিন্তু এদিকে গতকালই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তরফে জানানো হয় যে প্রার্থী তালিকার সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র নেই। তাহলে ফিরহাদ হাকিম এমন দাবী কেন করলেন, এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। একুশের নির্বাচন থেকেই আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আভাস মিলছিল, এবার যেন তা আরও প্রকট হয়ে উঠল।

ফিরহাদ হাকিম এদিন বলেন, “টিকিটের চাহিদা খুবই বেশি। কিন্তু পার্থদা, বক্সীদারা অনেক কষ্ট করে সকলের সঙ্গে কথা বলে আইপ্যাকের লিস্টও নিয়ে একটা তালিকা বার করেছেন। তার আগে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেকেই লিস্ট তৈরি করেছেন। আমিও একটা তালিকা তৈরি করে দিয়েছি। কিন্তু সেটা ছড়িয়ে দেওয়াটা অন্যায়। আমার কাছে ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড রয়েছে বলে সেটা আমি হঠাৎ করে দিয়ে দিলাম এটা অন্যায়। এই পাসওয়ার্ডটাই কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। সুতরাং এটা অন্যায়। যে তালিকা সুব্রত বক্সী সই করে দিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত তালিকা”।

সম্প্রতি, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজ দেখাশোনার জন্য অ্যাডহলক কমিটি গঠন করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটির সদস্য হলেন ফিরহাদ হাকিম, ফলে যে কোনও বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এদিন ফিরহাদই বলেন যে আইপ্যাকের থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছিল।

এর পাশপাশি তিনি এও দাবী করেন যে তৃণমূল ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার পাশাপাশি দলের শীর্ষস্তরের কিছু বাছাই করা নেতাদের কাছে এই পাসওয়ার্ড রয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে দার্জিলিং ছাড়া বাকি ১০৭টি পুরসভার নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালিকা তৈরির কাজে মূল ভারপ্রাপ্ত দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

তৃণমূলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া গ্রুপেও বিশদে প্রকাশিত হয় প্রার্থী তালিকা। এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়। রাজ্যের নানান জায়গা থেকে একাধিক নেতা, সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়করা এই প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এই তালিকা প্রকাশ নিয়ে কেউ কেউ আইপ্যাকের দিকে ইঙ্গিত করে। এই নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলেও সূত্রের খবর।

এরপর এদিন সন্ধ্যার পর সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সই করা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে এতে কিছুটা রদবদল দেখা যায়। তবে আইপ্যাকের তরফে দাবী করা হয়েছে যে তারা এই তালিকার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়।

RELATED Articles