প্রস্তুতি ছিল বেশ, আয়োজনের দিক থেকেও কোনও খামতি ছিল না। অতিথিরাও ধীরে ধীরে আসছিলেন। কিন্তু ঠিক সময় বিয়েটাই হল না। বিয়ের মণ্ডপে এমন সময় হাজির হলেন প্রথম স্ত্রী, তাও আবার দুই সন্তান নিয়ে। ব্যস, সব দেখেশুনে গ্রেফতারির ভয়ে বিয়ের ছেড়ে চম্পট দিল বর। এই ঘটনায় আসানসোলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গতকাল, শুক্রবার আসানসোলের হাটন রোডের একটি হোটেলে একটি বিয়ের আসর বসেছিল। পাত্র পঙ্কজ পাসোয়ান আসানসোলেরই বুধা এলাকায় বাসিন্দা। স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাঁর। বিয়ের সব প্রস্তুতি তখন শেষ। বিয়ের মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বর-কনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই ঘটে গেল বিপত্তি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঠিক সেই সময়ই সুই শিশুকে নিয়ে বিয়ের আসরে হাজির হন এক মহিলা। তিনি নিজেকে পঙ্কজের স্ত্রী বলে দাবী করেন। বেশ চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন তিনি। ওই মহিলার দাবী, তিনি বিহারের জামুইয়ের বাসিন্দা। তিনি বলেন যে পঙ্কজ তাঁকে সাত বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই শিশু নাকি তাদেরই সন্তান, এমনও দাবী করেন ওই মহিলা।
এরপরই বিয়ের আসরে তুমুল হইচই পড়ে যায়। প্রশ ওঠে তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন? আর আজই বা এলেন কী করে? এই বিয়ের খবর তিনি পেলেন কোথায়? সেই মহিলা জানান যে পঙ্কজ তাঁকে ও দুই সন্তানকে মাস চারেক আগে তাঁর বাপের বাড়িতে রেখে আসেন।
তবে কিছুদিন আগেই তিনি জানতে পারেন যে তাঁর স্বামী ফের বিয়ে করতে চলেছে। এরপরই দুই সন্তানকে নিয়ে আসানসোলে চলে আসেন তিনি। অভুক্ত অবস্থায় স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন তিনি। শেষপর্যন্ত যখন থানায় অভিযোগ জানানোর হুমকি দেন ওই মহিলা। তখন বিয়ের মণ্ডপ থেকে চালান অভিযুক্ত পঙ্কজ পাসোয়ান। তবে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।





