তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল অব্যাহত, সতর্ক করার পরও নির্দল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন নেতারা, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিরহাদের

দলের নেতাদের সতর্ক করার পরও অনেকেই নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম।

আজ, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পৌরনিগমে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “দল সতর্ক করার পরেও যারা নির্দল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে দল। দলের সিদ্ধান্ত খুবই কড়া হবে৷ তবে যাঁরা নির্দল হিসাবে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের ওজন বুঝে যাবেন। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি সরে গেলে কী হয়”!

উল্লেখ্য, পুরসভা নির্বাচনের জন্য দার্জিলিং বাদে বাকি ১০৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষোভ দেখা যায়। তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে যে তালিকা প্রকাশিত হয় তা মান্যতা পায়নি। এরপর ফের পার্থ চট্টোপাধ্যায় অন্য তালিকা প্রকাশ করেন। তবে তা নিয়েও জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

এই প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষের মাঝেই বিক্ষুব্ধদের জন্য বড় বার্তা দিয়ে পার্থ বলেন, “প্রার্থী তালিকা নিয়ে এবার আর কোনও ক্ষোভ থাকা উচিত নয়। এত বড় একটা দলে ভুল বোঝাবুঝি হয়”। তিনি জানান যে কিছু সংশোধন করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জেলা সভাপতিদের কাছে ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। পার্থ ও সুব্রতর দেওয়া তালিকাই চূড়ান্ত তালিকা। সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়। প্রতীক একটাই”।

এত কিছুর পরও যদি অসন্তোষ থেকে যায়, তাঁদের উদ্দেশে আজ আরও একবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। এদিকে, কাঁথি পুরসভায় শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীর টিকিট না পাওয়া প্রসঙ্গে ফিরহাদকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “টিকিট পায়নি না নেয়নি? কারণ কাঁথিতে তো ওরা জিততে পারবে না। তাই হয়তো ভয়ে নেয়নি”।

ফিরহাদের কথায়, “বিজেপির যা রাজনীতি, তা কখনই পশ্চিমবঙ্গে চলতে পারে না। তাই বিজেপি সারা ভারতেই আস্তে আস্তে অবদমিত হয়ে যাবে। বিজেপি একটা দল নয়, বাংলায় কোনও সংগঠন নেই। তাদের নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে, গুরুত্ব দেওয়া হবে। ওদের ন্যাচেরাল ডেথ হচ্ছে। লেট দেম পলিটিক্যালি ডাই ন্যাচেরালি”।

RELATED Articles