‘বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা আছে, সঠিক বিচারই পাবে অনুব্রত’, কেষ্টর দিল্লি যাত্রা প্রসঙ্গে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য ফিরহাদের

গরু পাচার কাণ্ডে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দিল্লি। দোলের দিন এমন ঘটনায় গোটা বঙ্গ রাজনীতি এখন বেশ সরগরম। অনুব্রতর দিল্লি যাত্রা নিয়ে আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অপব্যবহার করছে কেন্দ্র সরকার। এবার অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুখ খুললেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

আজ, মঙ্গলবার দোলের দিন সকালেই আসানসোল সংশোধনাগার থেকে কলকাতা আনা হয় অনুব্রতকে। জোকা ইএসআই হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা হয় তাঁর। অনুব্রতর স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর হাসপাতাল থেকে জানানো হয় যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ফিট সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই অনুব্রতকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা।

এই ঘটনায় আরও একবার অবস্থান স্পষ্ট করে ফিরহাদ বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থার উপর আমরা সম্পূর্ণ আস্থাশীল। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সঠিক বিচার পাবেন অনুব্রত মণ্ডল। আমাদের দেশের বিচারক গন আইনের বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষ। তাঁরা কোন ভুল করতে পারেন না”।

দলের অবস্থান স্পষ্ট করেও সংবাদমাধ্যমে ফিরহাদ বলেন, “কোর্টের বিষয়ে কিছু বলতে চাই না আমি। তবে বিচারের বাণী নীরবে, নিভৃতে কাঁদবে না। বিচার হবেই, বিচারে সত্য়তা বেরিয়ে আসবে। আমরা বিচারব্যবস্থার উপর বিশ্বাস করি। ভগবান যেমন কোনও অন্যায় করতে পারেন না, বিচারকও পারেন না। এটা আমি মন থেকে বিশ্বাস করি। এজেন্সির রাজ শেষ কথা বলবে না। শেষ কথা বলবেন মানুষ”।

এদিন অনুব্রতকে কলকাতা নিয়ে গেলে আসানসোল জেলের রাস্তা গঙ্গাজল ছিটিয়ে পরিষ্কার করে বিজেপি। রাস্তা ঝাঁট দিয়ে ধুয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করা হয়। জেলের বাইরে এই কাজ করা হয় বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। এর সঙ্গে চলে আবির খেলা।

এদিন বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ফিরহাদ। তাঁর কথায়, “আমাদের দেশে এজেন্সি রাজ, কেন্দ্রীয় পুলিশ রাজ শেষ কথা বলে না। শেষ কথা বলে সাধারণ মানুষ। একটা সময় দেশের সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে গিয়ে একটা জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ও দমন পীড়নের পথ নিয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। ফলস্বরূপ দেখা গিয়েছিল মানুষের ভোটে সেই সরকারকেও ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছিল। দমন পীড়ন চালিয়ে এদেশে ক্ষমতায় বেশি দিন টিকে থাকা যায় না”।

RELATED Articles