‘দুর্নীতিগ্রস্ত দল যাতে ২০২৬ সালে আর ক্ষমতায় না আসতে পারে’, বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূলকে তুলোধোনা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

এজলাস থেকে সোজা রাজনীতির ময়দান। পূর্ব ঘোষণা মতোই আজ, ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই শাসক দল তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি। কেন তিনি আসলে বিজেপিতে যোগ দিলেন, সেই উদ্দেশ্যও জানালেন প্রাক্তন বিচারপতি।

আজ, বৃহস্পতিবার সকালে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি যান বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও কাউন্সিলর সজল ঘোষ। অভিজিৎকে নিয়ে সোজা বিজেপির সদর দফতরে পৌঁছন তারা। এদিন শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে বিজেপি বরণ করে নেয় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। এরপর শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন প্রাক্তন বিচারপতি।

যোগ দিয়ে কী বললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আজ আমি একেবারে নতুন জগতে পা দিলাম। এই সর্বভারতীয় দলে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের মতো নেতারা আছেন। রাজ্যে আছেন সুকান্ত দা, শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের পরামর্শ আমার প্রতি মুহূর্তে লাগবে। আমি দলের একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক হিসেবে কাজ করতে চাই। যে দায়িত্ব আমাকে দল থেকে দেওয়া হোক, আমি তা পালন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজ আর বিশেষ কিছু বলার নেই”।

কেন বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি?

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য আসলে কী, তা নিজেই স্পষ্ট করলেন তিনি। বললেন, “প্রথম উদ্দেশ্য হল, একটা দুর্নীগ্রস্ত দল ও সরকারের বিদায় লগ্নের সূচনা করে দেওয়া, যাতে ২০২৬ এ আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। একজন বাঙালি হিসেবে অত্যন্ত কষ্ট পাই যখন দেখি বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। একটা সিরিয়াস লড়াই শুরু করতে হবে। আমি দায়িত্ব পালন করছি কি না, তা দেখতে পাবেন আগামিদিনে”।

প্রসঙ্গত, গত রবিবারই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে তিনি বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বিচারপতির পদ ত্যাগ করেন তিনি। এদিনই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন তিনি। প্রাক্তন বিচারপতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তিনি কোন আসন থেকে লোকসভা ভোটের প্রার্থী হবে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, তাঁকে তমলুক থেকে দাঁড় করাতে পারে বিজেপি। যদিও অফিশিয়ালি এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি এই নিয়ে।  

RELATED Articles