প্রতি ১৪৪ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভ মেলা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে কোটি কোটি মানুষ এই মেলায় অংশ নেন। এবারের মহাকুম্ভ মেলা ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে এবং চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে এবারের আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
চলতি মহাকুম্ভ মেলায় একাধিক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯ জানুয়ারি সেক্টর ১৯-এ বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যাতে ২৫০-র বেশি তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৯ জানুয়ারি, মৌনী অমাবস্যার দিন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদপিষ্ট হয়ে সরকারি হিসেবে ৩০ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হন। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৪৮-এর বেশি। পুলিশের বিরুদ্ধে মৃত্যুর পরিসংখ্যান লুকোনোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, মির্জাপুর-প্রয়াগরাজ সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন পুণ্যার্থী।
এই ঘটনার পর বুধবার বিধানসভা থেকে বিজেপিকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহাকুম্ভ মেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মহাকুম্ভ মহামৃত্যু হয়ে গিয়েছে। মহাকুম্ভ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কেন মহাকুম্ভে এতবার আগুন লাগল? ভিভিআইপি-দের টাকা দিয়ে কুম্ভে হাইপ তোলা হয়েছে। মহাকুম্ভের ঘটনায় কতবার কমিশন গিয়েছে? হাজার হাজার দেহ নদীতে ভাসানো হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ রাজনীতির আড়ালে বড়সড় প্রতারণা? প্রাক্তন তৃণমূল নেতার ফাঁদে ব্যবসায়ীরা, গ্রেফতার মানস রায়!
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “বিজেপি একটি ধর্মকে বিক্রি করে খাচ্ছে। আমাদের সেটা করতে হয় না। উত্তরপ্রদেশে যা হয়েছে, গোটা দেশ দেখেছে। এবার বিজেপি কেন মুখে তালা দিয়ে বসে রয়েছে?” তাঁর বক্তব্য, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও নানা সমালোচনা হয়, কিন্তু সেখানে যে সুসংগঠিতভাবে প্রশাসনিক তৎপরতা চলে, তা মহাকুম্ভের এই বিপর্যয় থেকেই স্পষ্ট।
মহাকুম্ভ মেলায় পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিরোধীরা দাবি তুলেছে, ভিআইপি সংস্কৃতি এবং অব্যবস্থার জন্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণের পর বিজেপির তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।





