‘আমি যখন দুর্নীতির কথা বলতাম, তখন তৃণমূলের পছন্দ হত না…’, সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়া জহর সরকারের কথায় অস্বস্তিতে তৃণমূল

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কম নয়। নানান দুর্নীতিতে জর্জরিত রাজ্যের শাসক দল। এমন আবহে এবার আরও একবার অস্বস্তিতে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। আর এই নিয়ে এবার ফের একবার তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া জহর সরকার।  

নানান দুর্নীতি নিয়ে প্রথম থেকেই বারবার সরব হয়েছেন এই জহর সরকার। আর জি কর কাণ্ডের ঘটনারও প্রথম থেকেই বিরোধিতা জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন জহর সরকার। এমনকি আর জি কর কাণ্ড ও দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আর এবার যখন দুর্নীতির বিষয়ে নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের, সেই সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় জহর সরকার লিখেছেন, “আমি যখন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলি তখন সেই কথা তৃণমূলের পছন্দ হত না। আর এখন তৃণমূলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছেন, ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ তাঁর নাম অপব্যবহার করে দুর্নীতি করছে। মেয়র সেটা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দয়া করে দলকে পরিষ্কার করুন”।

jawhar sircar post

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে লোককে ঠকিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি-র বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমের প্রতিক্রিয়া, “আমি এই ব্যাপারে কিছু জানতাম না। সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছি। এমন কোনও অভিযোগ থাকলে আগে আমাকেই তো বলা যেত। আমি বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করতাম। এমন অভিযোগের কথা আমি আগে কোনওদিন শুনিনি। তবে অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেমন করে সরাব”?‌

আরও পড়ুনঃ আর জি করের ঘটনার পর ট্যাক্সি বা ক্যাবে উঠতে ভয় মহিলাদের, কীভাবে আসন্ন বিপদ থেকে নিরাপদ রাখবেন নিজেকে, জেনে নিন ছোট্ট একটা কৌশল!

ফিরহাদের এহেন মন্তব্যে আরও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মেয়রের কথায়, অভিষেক পুলিশকে কেন জানালেন, তাঁকেই বলতে পারতেন সরাসরি। অনেকের কথায়, ফিরহাদ এই বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মিটিয়ে নিতে চাইছিলেন। কিন্তু একজন সাংসদের নামে কেউ যখন টাকা তুলছে, তখন সেটা একটা ফৌজদারি অপরাধ। আর এমন অপরাধের জন্য কোনও তদন্ত কী পুরসভা করতে পারে? সেই তদন্ত তো পুলিশকেই করতে হবে। ফিরহাদের কথায় যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তেমনই এবার জহর সরকারের এহেন পোস্টেও তৃণমূল যে বেশ বিড়ম্বনায় প্রেছে, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles