কল্পনা করুন, আপনি পরিবারের কারও সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে গেছেন, কারণ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জীবন সংকটময়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ছুটে গিয়ে দেখলেন, চিকিৎসা শুরু করার বদলে বলা হচ্ছে—”আগে পুলিশের অনুমতি আনুন, তারপর চিকিৎসা হবে!” ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে দুই রোগীর পরিবার, আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু না হওয়ায়, হাসপাতাল চত্বরে শুরু হয় উত্তেজনা। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়, বরং এরপর যা ঘটেছে, তা আরও চাঞ্চল্যকর।
বহু সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ওঠে, ইমার্জেন্সি বিভাগে রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা মেলে না। কখনও ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, কখনও নার্সদের অবহেলা, আবার কখনও প্রশাসনিক জটিলতা রোগীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে গতকাল যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র গাফিলতি নয়, বরং চিকিৎসকদের ভেতরেই বিভাজনের ছবি স্পষ্ট করে তুলেছে। রোগীর পরিবারের দাবি, তারা চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করলেও নার্স এবং জুনিয়র ডাক্তাররা সাফ জানিয়ে দেন—”আগে পুলিশে কমপ্লেন করুন, নাহলে চিকিৎসা নয়!” কিন্তু যখন এক মেডিকেল অফিসার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মেডিকেল অফিসার ডঃ তাপস প্রামাণিকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চিকিৎসা শুরু করার পক্ষে ছিলেন। তাঁর দাবি, পুলিশের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল। তিনি তাই বলেছিলেন, “আগে চিকিৎসা করা হোক, তারপর আইনি প্রক্রিয়া চলবে।” এই কথা বলতেই তাঁকে ঘিরে ধরে একদল জুনিয়র ডাক্তার ও নার্স। অভিযোগ, তাঁর অফিসে ঢুকে তাঁকে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়, এমনকি শারীরিকভাবেও আক্রমণ করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডঃ মানস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করছি, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযুক্ত জুনিয়র ডাক্তার এবং নার্সদের দাবি, ডঃ প্রামাণিকের দিক থেকেই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, “তিনি আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি এবং নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।”
আরও পড়ুনঃ ইউনুসের হাত ধরে ইতিহাস বদলের খেলা? ঢাকায় রাজপথ দখলে মৌলবাদীদের মিছিল!
ডঃ তাপস প্রামাণিক ইতিমধ্যেই হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ সব দেখিয়ে দেবে। চিকিৎসা নিয়ে গাফিলতি হচ্ছে, সেটা বোঝাতে গিয়ে আমাকেই হেনস্থা হতে হল।” এখন দেখার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের নজর পড়েছে। সত্যিই কি চিকিৎসার গাফিলতি হয়েছিল, নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে—সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই।





