শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানেই শুধু পড়াশোনা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ছাত্ররাজনীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন। আর সেই আন্দোলন যদি বৃহত্তর দাবির ভিত্তিতে হয়, তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা সমাজে। কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই নানা বিতর্ক ও আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। অতীতেও বহুবার এখানে ছাত্রদের বিক্ষোভ উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করেছে, কখনও শিক্ষাগত সংস্কার নিয়ে, কখনও বা রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘর্ষে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায়, বহু পড়ুয়া একপ্রকার বঞ্চিত বোধ করছেন। তাদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আর সেই কারণেই তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের তরফে যদিও একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবু পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা আরও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে গোটা রাজ্য।
গত শনিবার ওয়েবকুপার সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ঠিক সেই সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই বিক্ষোভের মাঝেই অভিযোগ ওঠে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় দুই ছাত্র আহত হন। এই ঘটনায় শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা, তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
এবার সেই ঘটনার তদন্তেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তিনজন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, ওয়েবকুপার এক সদস্যেরও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলার পরই তদন্তের গতি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী কেন এতদিন এফআইআর দায়ের করা হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠেছে। আদালতের হুঁশিয়ারির পরই পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ রোগীর প্রাণ সংকট, তবুও চিকিৎসা নয়! আরজিকরে জুনিয়র ডাক্তার-নার্সদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!
সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। এমনকী, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চালকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। এখন দেখার, এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।





