গঙ্গাসাগর মেলায় এবার ব্রেক করতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট! কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণার আর্জি

অন্যান্য বছরের তুলনায় বিগত এবং চলতি বছর অনেকটাই আলাদা। আর তাই কঠিন বেড়াজালের মধ্যে দুর্গাপুজো, ছট পুজো, দীপাবলি পালন করা হলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে গঙ্গাসাগর মেলায়। এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে।

গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণকে কন্টেইনমেন্ট জোন ঘোষণার আর্জি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার‌ই বিচার প্রসঙ্গে এদিন শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণণ বলেন, “মানুষের জীবনকে আগে সুরক্ষিত করুন, ধর্মের অধিকারের চেয়ে জীবনের অধিকার বড়।”

সূত্র মারফত খবর, আগামিকাল ফের দুপুর দুটোর সময় এই মামলার শুনানি হবে। আর জানানো হয় রাজ্য সরকারকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানাতে হবে সংক্রমণ রোধে রাজ্য কী ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। রাজ্যের জবাবে আদালত সন্তুষ্ট না হলে ‘ফুল স্টপ’ বসাতে দ্বিধা করবে না কোর্ট,‌ বলে মন্তব্য খোদ প্রধান বিচারপতির। একইসঙ্গে তিনি জানান “দুর্গাপুজো, ছটপুজোর সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলার পরিস্থিতির তুলনা হয় না। একমাত্র কুম্ভমেলার সঙ্গে তুলনা হয়। বাকি পুজোগুলিতে এত বিপুল মানুষ স্নান করতে নামেন না”।

রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি মেডিক্যালি নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব। কেন্দ্রীয় সরকারও এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনও গাইডলাইন দেয়নি। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার কিছু সংখ্যক হলেও কম পুণ্যার্থী আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যের এই জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, গতবছর কত মানুষ এসেছিলেন? রাজ্যের আইনজীবী জানান, প্রায় ২৫ লক্ষ। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা মানুষের স্বাস্থ্য নিয়েই চিন্তিত। দরকারে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসুন।” মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলার আইন ১৯৭৬ এ-তে উল্লেখ আছে, মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিশেষ কারণ দেখিয়ে রাজ্য এই মেলা বন্ধ করতে পারে। সেই অধিকার আছে এই আইনে।”

ডিভিশন বেঞ্চ এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা করে আগামিকাল হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

RELATED Articles