বিজেপির থেকে আলাদা হয়ে গেল মতুয়া মহাসংঘ, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে গেরুয়া শিবির, সাধারণ সম্পাদকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা

গতকাল, শনিবার বঙ্গ বিজেপির তরফে রাজ্যের নানান সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন জেলা সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মতুয়াদের প্রাধান্য দেওয়া হয়নি, এই নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। আর এর জেরেই বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়েন বিজেপির পাঁচ বিধায়ক। এই কারণেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে তাদের, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গায়েনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। পোস্টে তিনি লেখেন, “অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ আর নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক পার্টিকে সমর্থন করবে না”।

বিজেপির থেকে আলাদা হয়ে গেল মতুয়া মহাসংঘ, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে গেরুয়া শিবির, সাধারণ সম্পাদকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা

অন্য একটি পোস্টে লিখেছেন, “মতুয়াদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তৈরি থাকুন আগামী দিনের জন্য, মতুয়ারা ও বঞ্চিত করার ক্ষমতা রাখে”। এর থেকেই প্রশ্ন উঠছে যে সংগঠন কী তবে বিজেপির সঙ্গ পুরোপুরি ত্যাগ করল?

বিজেপির থেকে আলাদা হয়ে গেল মতুয়া মহাসংঘ, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে গেরুয়া শিবির, সাধারণ সম্পাদকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা

এই মুহূর্তে মতুয়া মহাসংঘের দায়িত্বে রয়েছেন ঠাকুরবাড়ির দুই সদস্য মমতাবালা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুর। তবে এ নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে এই দু’জনের কথা মেনে চলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

পদাধিকার অনুযায়ী, মমতাবালা ঠাকুর অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের প্রধান মমতাবালা ঠাকুর। আর সাধারণ সম্পাদক হলেন সুখেন্দ্রনাথ গায়েন। রবিবার তাঁর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। পোস্টে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে মতুয়াদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি জানান যে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে না।

বিষয়টি নিয়ে সুখেন্দ্রনাথ গায়েন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ”পোস্টটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমরা মোট ১১ দফা দাবি নিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার একটাও পূরণ হয়নি। সবক্ষেত্রে মতুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তাদের যোগ্য নেতৃত্বকে সম্মান দেওয়া হয়নি”।

গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষ থেকে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির দুই ছেলে ও মতুয়া ঘনিষ্ঠদের প্রার্থী করা হয়েছিল। ভোটে জয়ীও হন তারা। গত শনিবার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও বদল করা হয়। বিজেপির প্রবীণ নেতা রামপদ দাসকে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপরই বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার ৪ মতুয়া বিধায়ক এবং রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির বিধায়ক দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আজ, রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদকের এই পোস্টকে ঘিরে বেশ জল্পনা বেড়েছে।

RELATED Articles