সন্ধ্যে নামার অপেক্ষা। তারপরই শুরু হত নানান বিকট শব্দ। যেন মনে হত ছাদের উপর রাজমিস্ত্রি কাজ করছে, সাজানো হচ্ছে ইট। এমনই বিকট সেই শব্দ যে ঘুমোতেও পারতেন না বাসিন্দারা। সাহস সঞ্চয় করে রাতে উঠে ছাদে গিয়েওছিলেন তারা কিন্তু কারোর দেখা মেলেনি। এরপর থেকেই ভূতের ভয় পেয়ে বসেছে এলাকাবাসীর মনে। প্রতিদিনই সহ্য করতে হয় এই ভূতের উপদ্রব।
ঠিক কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এমন ভূতের উপদ্রব দেখা দিয়েছে হুগলির পোলবার ভুয়াগাছি দক্ষিণপাড়ায়। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম বিশ্বাস। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই উত্তম বিশ্বাসের বাড়ির একতলা ছাদেই শুরু হয়েছে এই ‘ভূতের’ উপদ্রব। ওই ছাদ থেকেই রাতে নেমে আসে বিকট শব্দ।
এই ঘটনায় উত্তম জানাচ্ছেন, “অন্ধকার নামতেই ছাদের উপর কেউ যেন অনবরত ইঁট ফেলছে। ভয়ে ঘরে থাকতে পারতাম না। পরে সবাই মিলে ছাদে উঠে দেখেছি কেউ নেই। ভূত ছাড়া ওই শব্দ কে করবে”?
এলাকায় এমন ভূতের উপদ্রবের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি চলে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। এই ঘটনার কথা জানার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যান্ডেল-মগরা বিজ্ঞান কেন্দ্রের সদস্যরা। বিজ্ঞানমঞ্চের ওই কেন্দ্রের সম্পাদক সন্দীপ সিংহ জানান, “অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই কেউ হয়তো ছাদের উপর কিছু দিয়ে আঘাত করেছে। যার ফলে বাসিন্দারা ওই শব্দ থেকে ভূতের আতঙ্কে ভুগছিলেন। আমরা অবশ্য কোনও শব্দ শুনতে পাইনি”।
জানা গিয়েছে, বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা ওই এলাকা থেকে যাওয়ার পর এক রাত কেটেছে। কিন্তু সেই শব্দ আচমকাই গায়েব। কিছু শোনা যায়নি সেই রাতে। কিন্তু তবুও আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসীর মন থেকে। সন্দীপ আরও জানিয়েছেন, “প্রয়োজনে আমরা আবারও ওই গ্রামে যাব। বাসিন্দাদের বলে এসেছি, একটু সাহস সঞ্চয় করে থাকুন। তাহলেই অসৎ ব্যক্তি পিছু হঠতে বাধ্য”।






