উৎসব মানেই আনন্দ, ভিড় আর মিলনমেলা। বিশেষ করে ঠাকুরনগরের মতুয়া মেলা প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে। পরিবার, বন্ধু কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা অনেক সময় প্রশ্ন তুলে দেয় নিরাপত্তা আর দায়িত্ব নিয়ে।
এই বছরও মেলায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ভিড়ের মধ্যেই কয়েকজন মহিলা ঘুরতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় এক যুবক তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ওই যুবক নাকি দু’জন মহিলাকে স্পর্শ করে এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আচমকা এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়ে তাঁরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ঘটনার পরই ওই মহিলারা মেলার মধ্যেই উপস্থিত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। প্রথমে পুলিশ আশ্বাস দেয় যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু অভিযোগ, তারপরে আর তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়, যা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ নাকি উল্টে মহিলাদেরই প্রশ্ন করতে শুরু করে—রাতের বেলায় কেন বাইরে ছিলেন, এমনকি তাঁদের পোশাক নিয়েও মন্তব্য করা হয়। উপস্থিত এক পুলিশ আধিকারিক গৌরী প্রসন্ন এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন বলেও দাবি উঠেছে। এই মন্তব্যেই ক্ষোভ আরও বাড়ে। মহিলাদের বক্তব্য, নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে এমন প্রশ্ন তোলা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : মন্তেশ্বর ও খণ্ডঘোষে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই অশান্তি চরমে! প্রার্থীতা মানতে নারাজ দলের নেতা-কর্মীরা! ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা গন-পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়ে সরগরম এলাকা!
ঘটনার অংশ ন মোবাইলে রেকর্ড করেন পিংকি পাণ্ডে নামে এক তরুণী। পরে সেই ভিডিও ও অভিযোগ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয় এবং বিচার দাবি তোলা হয়। অভিযোগ, সেদিন রাতে সঠিকভাবে কথা শোনা না হওয়ায় পরদিন সকালে গাইঘাটা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলারা। এখন এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।





