West Bengal assembly election 2026 : মন্তেশ্বর ও খণ্ডঘোষে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই অশান্তি চরমে! প্রার্থীতা মানতে নারাজ দলের নেতা-কর্মীরা! ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা গন-পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়ে সরগরম এলাকা!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ, নেতা-কর্মী ও প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঝেই এই দুই এলাকায় অশান্তি শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে বিষয়টি ছিল কেবল অন্তঃদলের অসন্তোষের ইঙ্গিত, কিন্তু একের পর এক ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভোটের আগেই তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দল যে কতটা তীব্র, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করেছে।

খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নবীন বাগের নাম ঘোষণা হতেই দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ দেখা দেয়। ব্লক সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি এবং জেলা পরিষদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে তারা পদত্যাগ করে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন। এই সিদ্ধান্তে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ব্লক সভাপতি অপার্থিক ইসলাম বলেন, “দলের জন্মলগ্ন থেকে যারা দলের জন্য লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন, বাড়ি ছেড়েছেন, আজ তাদের কোনও সম্মান দেওয়া হয় না। অন্যদিকে সিপিএম থেকে আসা এক ব্যক্তি বারবার প্রার্থী হচ্ছেন। এই অবিচার মানা যায় না।”

অন্যদিকে, মন্তেশ্বর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরই পরিস্থিতি একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলের ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি, বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশকে তৎপর হতে হয় এবং লাঠি উঁচিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। দুঃখজনকভাবে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দিগনগর গ্রামে চৌধুরীর অনুগামী ও মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেনের অনুগামীদের মধ্যে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ঘটে।

মন্তেশ্বরের ঘটনাগুলো শুধুই ব্যক্তিগত কোন্দল নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আরও তীব্র করেছে। অনেক তৃণমূল নেতা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘরোয়া বৈঠকেও এই সমস্যা তুলে ধরেছেন, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। চৌধুরী নিজে সতর্কতার সঙ্গে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তবে দলের গোষ্ঠী বিরোধ এতটাই তীব্র যে কোনো নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি হলে বড় ক্ষতি হতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “নিজেদের হাত-পা ভাঙতে হলে আমার পরামর্শ প্রয়োজন নেই, দলই তাদের জন্য ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : ১৪৪ নাম ঘোষণার পরও অজানা বহু সমীকরণ! বিজেপির দ্বিতীয় তালিকায় কারা থাকছেন? হিরণ-তাপস, দেবশ্রী চৌধুরীকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের এই ঘটনা প্রমাণ করে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দলের সঙ্গে থাকা মানেই ন্যায় ও সম্মানের দাবি রাখা। অন্যদিকে মন্তেশ্বরে সংঘর্ষ ও বোমাবাজি পুরো নির্বাচনী এলাকা উত্তপ্ত করে তুলেছে। আগামী দিনে এই দুই কেন্দ্রে ভোট প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রার্থী নির্বাচনের উপর অসন্তোষ এবং নেতাদের ক্ষোভ যে কতটা বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, তা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles