টুকলি আটকাতে কড়া রাজ্য, মেডিক্যাল পরীক্ষায় হবে লাইভ স্ট্রিমিং, থাকবে বারকোড, নয়া নির্দেশ নিয়ে কী বলছে জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্ট?

মেডিক্যাল পরীক্ষায় যে আরও বেশি কড়াকড়ি নিয়ম আসতে চলেছে, তা আগেই জানানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। এবার সেই অনুযায়ীই কাজ শুরু করে দিল সরকার। মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচার নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদাররা। তাদের দাবী ছিল, এমন অনেক জুনিয়র চিকিৎসক রয়েছেন, যারা পাশ করার যোগ্য নয়। তাদের সেই দাবীঢ় পরই এবার মেডিক্যাল পরীক্ষায় কড়া নিয়ম আনল রাজ্য।

রাজ্যের তরফে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, এবার থেকে প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি থাকবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার সরাসরি সম্প্রচার হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও, পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর নামের পরিবর্তে থাকবে বারকোড, এমনটাই নির্দেশ এসেছে রাজ্যের তরফে।

জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের চিকিৎসকরা রাজ্যের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বটে তবে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান তারা। জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদার বলেন, “তিনি আগেই এটা নবান্নের বৈঠকে বলেছিলেন। ফেল করার মতো ডাক্তারি পড়ুয়া আমরাও চাই না। যাঁরা পরীক্ষায় ১০ পাওয়ার যোগ্য, তাঁরা যেন ১০০ না পেতে পারেন। এটি যদি সত্যিই সরকার করতে পারে, তা অবশ্যই ভাল। শুনেছি একটি কমিটি গঠন হয়েছে। সেই কমিটি যদি এই কাজ করতে পারে, তবে অবশ্যই ভালো হবে”।

বলে রাখি, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর নানান অভিযোগ সামনে এসেছিল। এর মধ্যে ছিল মেডিক্যাল পরীক্ষায় কারচুপি, টুকলি, ভয় দেখিয়ে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, থ্রেট কালচারের মতো নানান অভিযোগ। নবান্নে এই সমস্ত বিষয়গুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন, এমন পদক্ষেপ করা হবে যাতে পরীক্ষায় কেউ ঘাড় না ঘোরাতে পারে। সেই নিয়ে নানান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষদের সঙ্গে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের বৈঠক হয়। আর এরপরই নেওয়া হয় নানান সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুনঃ বিরাট রদবদল তৃণমূলে! মমতাকে খসড়া তালিকা দিলেন অভিষেক, উপনির্বাচন আবহে বড় সিদ্ধান্ত, কোন নেতার উপর পড়ল কোপ?

রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকায় এই প্রসঙ্গে জানানো হয়, “প্রতিদিন যতক্ষণ পরীক্ষা চলবে, ততক্ষণের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে পাঠানো হতে পারে। প্রতিদিনের সিসিটিভি ফুটেজ আলাদা-আলাদা ফোল্ডারে থাকবে। পরীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিনদিনের মধ্যে উপযুক্ত মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সেটা পাঠাতে হবে। সেই কাজটা করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের ফলপ্রকাশ আটকে যাবে”।

RELATED Articles