করোনা থেকে বাঁচার জন্য যে দু’টি জিনিস মানুষ আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখতে চাইছেন সেগুলোর এখন আকাল পড়েছে ।
১.হ্যান্ড স্যানিটাইজার
২.মাস্ক।
এই দুটি জিনিস নিয়ে রীতিমতো কালোবাজারী শুরু করেছেন একদল ব্যবসায়ী। সেই অভিযোগ পেয়ে তৎপর হন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের দুর্নীতিদমন শাখার পুলিশ। দোকানে দোকানে হানা দিয়ে সমস্ত ঘটনার খুঁটিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা। এই দুটি জিনিসই নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ বা আরও বেশি দামে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পেয়েছে প্রশাসনও।
মুর্শিদাবাদের কান্দি শহরে মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন দোকানের বাইরে মাস্ক কেনার জন্য লম্বা লাইন দেখা যায় । “অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই” বলে প্রশাসনের তরফে প্রচার করা হলে লোক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে মাস্ক কিনে সংগ্রহ করতে চাইছেন আর সেই সুযোগে একশ্রেণীর লোক মুনাফা করতে শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
গুজবে কান দিয়ে কিংবা আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে অনেকে মাস্ক কিনতে শুরু করেছেন, তাই ওষুধের দোকানের পাশাপাশি মণিহারি দোকানগুলিও এখন মাস্ক বিক্রি করতে শুরু করে দিয়েছে। মাস্কের মধ্যেও ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভিন্ন দামের মাস্ক বাজারে চলছে। একটি বিশেষ ধরনের মাস্কের দাম সবচেয়ে বেশি ,১৬০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত । কিন্তু সেই মাস্কের দামই এখন আকাশ ছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দরে। এরপর ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দামের মধ্যে যে সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া যায় তাও এখন ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিকোচ্ছে বলে অভিযোগ।
এলাকার এক ওষুধ বিক্রেতা বলেন, “মানুষ না বুঝে শুনেই মাস্ক কিনতে আসছেন আমাদের কাছে। আমরাও সাধ্যমত চাহিদার জোগান দিচ্ছি বাইরে থেকে এনে। তাই দামও পড়ছে সাধারণ দামের ছ’ থেকে সাত গুণ বেশি।” কান্দির বাসিন্দা স্বপন দাস আশঙ্কা করছেন , “চারদিকে যা পরিস্থিতি চলছে তাতে আমাদের জেলায় যেকোনো মুহূর্তে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিতে পারে । তাই আগাম সর্তকতা হিসাবেই এই মাস্ক বেশি টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।”
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, “কেবল আশঙ্কার ভয়ে শুধু মাস্ক পরলেই হবে না তার সাথে উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা আবশ্যক। তবেই যথাযথভাবে মারনরোগকে এড়ানো যেতে পারে” মাস্কের কালোবাজারি নিয়ে কান্দি পুরসভার প্রধান অপূর্ব সরকার বলেন, “পুরসভার পক্ষ থেকে এলাকায় সকলকে সজাগ করা হয়েছে যাতে কেউ নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে বেশি দিয়ে মাস্ক না কেনেন। এতে এই দুঃসময়ে কালবাজারীর রমরমা চূড়ান্ত হতে পারে।”
মেদিনীপুর শহরেও মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে কালোবাজারি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি জিনিস বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকানে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি জানতে পেরেই তৎপর হয়ে ওঠেন পুলিশকর্মীরা এবং পরিস্থিতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খুঁটিয়ে দেখতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে অভিযান চালায় মেদিনীপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। বিভিন্ন দোকানের স্টক তাঁরা মিলিয়ে দেখেন এবং দোকানিদের আগাম সতর্কও করেন।
মাস্কের কালোবাজারি রুখতে বুধবার সকাল এগারোটা থেকে মালদহের ইংলিশবাজার শহরে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ঘোরেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের পুলিশকর্মীরা। দোকানগুলি যাতে বেশী মূল্যে মাস্ক বিক্রি না করে সে ব্যাপারে তাঁরা পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। এখন পরিস্হিতি বিবেচনা করে বলা যায় যে মালদহের কোনও দোকানে মাস্কের যোগান নেই।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার