শীতের পরশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই ফের চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। সকাল হতেই শরীর জুড়ে চিপচিপে ঘাম, রাস্তায় বেরোলেই প্রচণ্ড গরমের দাপট! একসময় যে হালকা শীতের আমেজে সকাল শুরু হত, এখন তা বদলে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যবর্তী সময় মানেই বসন্তকাল, কিন্তু বাস্তবে তাপমাত্রার এই উর্ধ্বগতি যেন একেবারে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। একদিকে দোল উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে প্রখর রোদের জ্বালা— এই বৈপরীত্যের মাঝেই শুরু হয়েছে গরমের দাপট।
এই সময়টা মানেই বসন্তের হালকা শীতলতা, কোকিলের ডাক আর দোলপূর্ণিমার আবহ। কিন্তু এবারের বসন্ত যেন ব্যতিক্রম। সকাল থেকেই রোদের তেজ এতটাই বেশি যে, ঘরের বাইরে বেরোলেই যেন মনে হচ্ছে চৈত্র মাস পড়ে গেছে! এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, এই গরম কি এবার আগেভাগেই শুরু হয়ে গেল? না কি সামনেই অপেক্ষা করছে আরও ভয়ংকর দাবদাহ? বিশেষ করে যাঁরা রোজ রাস্তায় বেরোতে বাধ্য, তাঁদের জন্য এই গরম যেন নিত্য দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে ইতিমধ্যেই গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। পুরুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সাধারণের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় আরও বেশি অস্বস্তি হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের গরম আরও বাড়বে। আগামী বুধবার পর্যন্ত একটানা চলবে এই তাপপ্রবাহ। তবে সন্ধ্যার পর ফাল্গুনী হাওয়া কিছুটা স্বস্তি দিলেও দিনের বেলায় রোদের দাপট থাকবে চরমে। বিশেষত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে, উত্তরবঙ্গের চিত্র কিছুটা আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও মালদহে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, সেখানে তুষারপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুনঃ চাকরি, অর্থ, প্রেম—সব বদলে যাবে? বৃহস্পতির কৃপায় এই রাশির জাতকদের জন্য দুর্দান্ত সুখবর!
দক্ষিণবঙ্গের মানুষ আপাতত গরমের দাপট থেকে মুক্তি পাবেন না। অন্তত চলতি সপ্তাহে কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে কিছু কিছু জেলায়। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে, যা কিছুটা হলেও সেখানকার আবহাওয়াকে স্বস্তিদায়ক করছে। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়বে না কমবে, সেটাই এখন দেখার। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত যারা বাইরে বেরোবেন, তাঁদের সাবধানতা অবলম্বন করাই ভালো।





