স্কুলে নেই কোনও শিক্ষক, পড়ুয়াদের কথা ভেবে নিজেই ক্লাস নিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বেহাল অবস্থা রাজ্যের স্কুলে

স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ৪০ জন কিন্তু শিক্ষক একজন। তাও তিনি অতিথি শিক্ষক। কিন্তু তিনিও অবসর নিয়েছেন কয়েকমাস আগে। তাহলে পড়ুয়াদের কী হবে? স্কুল কী বন্ধ হয়ে যাবে? একথা ভেবেই তাই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ৪০ জন পড়ুয়ার ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

উচ্চ প্রাথমিকে বন্ধ শিক্ষক নিয়োগ। ফলে শিক্ষকের অভাবে রাজ্যের একাধিক হাইস্কুলগুলি যেন ধুঁকছে। পড়ুয়া থাকলেও নেই শিক্ষক। তেমনই অবস্থা মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার তরতিপুর জুনিয়র হাই স্কুলে। শিক্ষকের অভাবে ওই স্কুলে তালা পড়ার জোগাড়।

জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুল চত্বরেই ওই হাইস্কুল তৈরি হয়। সেই সময় তিনজন অতিথি শিক্ষক ছিলেন। ২০১৪ সালে একজন পূর্ণ সময়ের শিক্ষক যোগ দেন স্কুলে। বছর দুয়েকের মধ্যে চাকরির মেয়াদ শেষ হয় অতিথি শিক্ষকদের। ২০১৮ সালে যোগ দেন এক শিক্ষাকর্মী। কিন্তু ২০২১ সালের নভেম্বরে ওই স্কুলের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান।

সেই কারণে স্কুল চালু রাখতে ২০২২ সালে ওই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন যোগ দেন অতিথি শিক্ষক হিসেবে। তবে তাঁরও কাজের মেয়াদ ফুরিয়েছে গত ৩১ আগস্ট। এবার কী হবে? স্কুল কী তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে? এমনই আশঙ্কায় ভুগছেন অভিভাবকরা।

সেই কারণে স্কুলকে বাঁচিয়ে রাখতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই নিয়মিত পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছেন ও মিড ডে মিলও সামলাচ্ছেন ইকবাল হোসেন। তাঁর কথায়, “আগস্টে আমার ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। চাকরির মেয়াদ ফুরিয়েছে। কিন্তু পড়ুয়াদের কথা ভেবে, প্রশাসনের অনুরোধে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছি”।

এক উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা টেট উত্তীর্ণ হয়ে, প্রশিক্ষণ নিয়ে বসে আছি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা চলছে। দ্রুত নিয়োগের বন্দোবস্ত করলে স্কুলগুলি বাঁচবে। উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীরাও বাঁচবেন”।

অন্যদিকে, হরিহরপাড়া চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তীর কথায়, “ওই অতিথি শিক্ষককে স্কুল চালাতে বলা হয়েছে। নতুন করে অতিথি শিক্ষকের খোঁজ চলছে। উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ হলে সমস্যার সমাধান হবে”।

RELATED Articles