সকাল গড়াতেই শহরজুড়ে যেন আগুন ঝরছে। রোদের তীব্রতায় যেন হাঁটার উপায় নেই, একেকটা নিঃশ্বাস যেন আগুন টেনে নিচ্ছে শরীরে। অফিসযাত্রী থেকে কলেজ পড়ুয়া, সকলেই রাস্তায় বেরিয়ে একবাক্যে বলছেন—”এ গরমে আর চলা যাচ্ছে না!” এপ্রিলে যে গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল, মে মাস পড়তেই যেন তার বহুগুণে বেড়েছে অস্বস্তি। শুধু শহর কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাও এই চরম গরমে হাঁসফাঁস করছে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ছায়া খোঁজা যেন একমাত্র উদ্দেশ্য।
তাপমাত্রা ৪০ ছুঁই ছুঁই। রাস্তায় বেরিয়ে ১০ মিনিট দাঁড়ালেই ঘর্মাক্ত অবস্থা। জল খেয়ে খেয়ে পেট ভরছে, কিন্তু তেষ্টা মিটছে না। এ অবস্থায় সকলেই অপেক্ষায়, কবে মিলবে সেই কাঙ্খিত এক পশলা বৃষ্টি? পাড়ায় পাড়ায় এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ই হল—”বৃষ্টি কবে হবে?” আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে শহরবাসীর কৌতূহল তুঙ্গে। তবে শুধু শহর নয়, গ্রামের দিকেও একই দৃশ্যপট। মাঠে কাজ করতে নামা কৃষক থেকে শুরু করে বাজার করতে বেরোনো মানুষ—সবাই চাতকের মতো তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে।
তীব্র গরমের মধ্যেই আশার আলো দেখাচ্ছে মৌসুমি বায়ু। নির্ধারিত সময়ের ৫ দিন আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢুকে পড়েছে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। আজ ১৪ মে তা আরও বিস্তার লাভ করে ঢুকে পড়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও উত্তর আন্দামান সাগরের কিছু অংশে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বায়ু মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজায় থাকবে চূড়ান্ত গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া। পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বীরভূমে বিক্ষিপ্তভাবে তাপপ্রবাহ দেখা যাবে। তবে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। সেই সময় থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ সহ একাধিক জেলায় শুরু হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি। যদিও সমস্ত জেলায় একসঙ্গে ঝড়বৃষ্টি না হলেও, আঞ্চলিকভাবে এক-এক জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে চরম গরমের জেরে কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা দিতে পারে এই পরিবর্তন।
আরও পড়ুনঃ Atrology : ২৭ মে শনি জয়ন্তীতে শনি দেবের কৃপায় বদলাবে কপাল!৩ রাশি জাতকরা পাবেন কেরিয়ার ও অর্থলাভের সুযোগ!
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিকেলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায়। বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে—২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়েও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই আপাতত দক্ষিণ ও উত্তর—দুটো বঙ্গেই গরমের শেষে স্বস্তির কিছুটা ইঙ্গিত থাকলেও, সতর্ক থাকতেই হবে—কারণ ঝড়ের দাপটও কম হবে না।





