গ্রীষ্মের রোদ যখন আর বেশি দিন ধরে সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, ঠিক তখনই প্রকৃতি যেন নতুন রঙ আর আনন্দ নিয়ে আসে বর্ষার আগমনে। যে মাটি খেতে শুকনো ও গরম থাকে, সেই মাটি যখন পানির স্পর্শ পায়, তখন শস্যে প্রাণ জাগে। কিন্তু এর সঙ্গে আসে ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত, কখনো কখনো বন্যার সতর্কতা। এই বদল মানুষের জীবনে একরকম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা নিয়ে আসে।
শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত, স্কুল-কলেজ থেকে কাজের জায়গা পর্যন্ত, বৃষ্টির আগমন সবাইকে ভাবায়। কখন বৃষ্টি শুরু হবে, কতদিন থাকবে, তা নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ মিশ্রিত থাকে। বিশেষ করে যারা কৃষিজীবী, তাদের জন্য বর্ষার আগে হাওয়া অফিসের বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফসলের ক্ষতি হয়, আর অতিরিক্ত বৃষ্টিও বিপদ ডেকে আনে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ মে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। শুধু তাই নয়, এই বৃষ্টিপাত চলতে পারে পুরো সপ্তাহ জুড়ে। যদিও বর্ষার স্বাভাবিক সময় এখনও কিছুটা দূরে, এবার বর্ষা আসার আগাম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।এই নিম্নচাপের প্রভাবে বাতাসের গতি থাকবে অনেক বেশি, যা ঝোড়ো হাওয়ার আকার নিতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবিকা, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সকলের জন্য সাবধান থাকার কথা বলা হয়েছে।
আগামী ২৭ মে থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই এলাকাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর আগে, ২৩ মে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৪ ও ২৫ মে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্রমশ ২৭ তারিখ থেকে ভারী বৃষ্টিতে পরিণত হবে।
উত্তরবঙ্গেও ২৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে, যা কৃষক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতার কারণ হতে পারে। যদিও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার স্বাভাবিক আগমন ১০ জুনের পর, এবার বর্ষা আসতে পারে আগাম। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ইতিমধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে গেছে, যা বাংলার আকাশেও বর্ষার আগাম আগমন সংকেত দেয়। সব অনুকুল থাকলে, বর্ষার আগমন সময়ের আগেই হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : জুনে খুলে যাচ্ছে কপাল! মঙ্গল-কেতুর মিলনে এই ৩ রাশির জীবনে আসছে দারুণ সাফল্য!
হাওয়া অফিসের এই সতর্কতা সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের ঝড়-বৃষ্টির জন্য বিশেষ যত্ন নিতে বলা হয়েছে। গবাদিপশু, ফসল, বাড়িঘর ও যানবাহন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য টানা ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমে আনা যায়। চলতি সপ্তাহে আবহাওয়ার খবর নিয়মিত নজর রাখা উচিত।





