রবিবারের বিকেলটা ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। পাঁশকুড়ার গোঁসাইবেড় বাজারে তখন ভিড় জমেছে ছোট বড় দোকানপাটে। হেসে খেলে কাটছিল সময়। কিন্তু এই চেনা বিকেলের মাঝে একটা ছোট্ট শিশুর জীবনে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা বদলে দিল গোটা পরিবারের ভবিষ্যৎ। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কি কখনও ভেবে দেখি, একটি চিপসের প্যাকেট, একটি ভুল বোঝাবুঝি, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি—এই তিনে মিলে শেষ হয়ে যেতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ?
আমরা প্রায়ই শুনি, সমাজে বিচার চাওয়া মানুষকে কোন পথে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যখন সেই মানুষ একজন মাত্র সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তখন ঘটনাটা হয়ে ওঠে আরও হৃদয়বিদারক। চিপস ‘চুরির’ সন্দেহে মার খেতে হল তাকে। অপমান সইতে না পেরে সে যা করল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
পাঁশকুড়ার গোঁসাইবেড় বাজারের বাসিন্দা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাস সেদিন বাজারে বেরিয়েছিল শুধুমাত্র চিপস কেনার উদ্দেশ্যে। পরিবারের দাবি, সে যে দোকানে গিয়েছিল সেখানে চিপস ছিল না। দোকানদারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দোকানের বাইরে পড়ে থাকা একটি চিপসের প্যাকেট কুড়িয়ে নেয় সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভুল। ওই দোকানের মালিক শুভঙ্কর দীক্ষিত, যিনি পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ারও বটে, বাইকে চেপে কৃষ্ণেন্দুর পিছু ধাওয়া করেন। অভিযোগ, বাজার এলাকাতেই কৃষ্ণেন্দুকে ধরে চুরির অপবাদ দিয়ে কান ধরে ওঠবস করান, মারধর করেন।
বাড়ি ফিরেও রেহাই মেলেনি অপমান থেকে। কৃষ্ণেন্দুর মা এসে তাকে বকাঝকা করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। সে সোজা নিজের ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, সে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ঘর থেকেই উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট, যেখানে সে লিখেছে, “মা আমি বলছি আমি চিপস কুড়িয়ে পেয়েছিলাম, চুরি করিনি।” পরিবারের দাবি, কৃষ্ণেন্দু ঘরে থাকা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : বর্ষা আসার আগেই দুর্যোগের বার্তা! ঘূর্ণিঝড় নয়, কিন্তু সপ্তাহজুড়ে বজ্র-সহ বৃষ্টিতে নাজেহাল হতে পারে বাংলা!
তড়িঘড়ি তমলুক মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় কৃষ্ণেন্দু। গোটা এলাকা এখন শোকস্তব্ধ। শুভঙ্কর দীক্ষিতের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সকলেই। একটি শিশু কেবল অপমানের ভারেই নিজের জীবনকে শেষ করে দিল—এই সমাজ কি তবে তাকে ন্যায় দিতে পারবে?





