গরমে হাঁসফাঁস করছে গোটা বাংলা। হঠাৎ করেই মে মাসের শেষ লগ্নে এসে সকালে রোদের ঝলকানি, আর বিকেলে হালকা হাওয়ার পরশ যেন আশার আলো দেখাচ্ছে। শহরবাসী যেমন হাঁপ ছেড়ে বাঁচছেন, তেমনই কৃষকরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আশা করছেন প্রকৃতি তাদের পক্ষে আসবে। তবে প্রকৃতির এই আচরণ কেবল ঠান্ডা পরশ নয়, লুকিয়ে রেখেছে আরও বড় চমক।
কলকাতার অলিগলি এখন যেন অপেক্ষার প্রহর গুনছে—যখন মাটির গন্ধে ভরে উঠবে বাতাস, ছাতা খুলে ছুটতে হবে অফিস কিংবা স্কুলে। অনেকেই ভাবছেন, তবে কি এবার বর্ষার আগমনের ইঙ্গিত মিলছে? শুষ্কতা কাটিয়ে বৃষ্টি কি সত্যিই ফিরছে শহরে? আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য কিন্তু বলছে, এমন কিছু একটা হতে চলেছে, যা সামনের সপ্তাহে বদলে দিতে পারে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চেহারা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৭ মে, মঙ্গলবারের মধ্যে মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থলে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এর জেরে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মুষলধারে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে। তবে এখানেই শেষ নয়।
শনিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শুরু হতে পারে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি। রবিবার পর্যন্ত কলকাতায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় এই ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে আরও তীব্র, যেখানে গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৫০ কিমি পর্যন্ত। এদিকে, কলকাতার তাপমাত্রা গত কয়েক দিনে বেশ কিছুটা কমেছে—শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.১ ডিগ্রি কম।
আরও পড়ুনঃ Astrology : শুক্র মেষে, শুরু হবে সুখের সময়! এই ৫ রাশির জীবনে আসবে অর্থ, খ্যাতি ও প্রেমের জোয়ার!
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির ছোঁয়া লাগতে চলেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায় সোমবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। এই মুহূর্তে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে বড়সড় তাপমাত্রার পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে বৃষ্টির পরিমাণ ও গতিপ্রকৃতি বদলে যেতে পারে মুহূর্তে। সেক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলার জন্য জারি থাকতে পারে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—আসন্ন সপ্তাহে বৃষ্টির ছন্দে কেমন ভিজবে গোটা বাংলা।





