টানাটানির সংসার। মা কষ্ট করে ফর্ম ফিলাপের টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের টেস্টে পাশ করতে পারে নি ছাত্রী। কিন্তু টেস্টে পাশ না করায় ফর্ম ফিলাপ অনর্থক হয়ে পড়ে। তাই সেই ফর্ম ফিলাপের টাকায় বিরিয়ানি কিনে খেয়েছিল ওই ছাত্রী। এই নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝামেলা হয়। অভিমানে আ’ত্ম’ঘা’তী ওই পড়ুয়া।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে গড়িয়ায়। ওই ছাত্রীর নাম স্নেহা মুণ্ডা। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী সে। বয়স ১৭ বছর। বাবা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছে স্নেহার। গড়িয়ায় মা ও বোনের সঙ্গে থাকত সে। সংসার চালাতে কাজ করেন মা। বেশ টানাটানির সংসার। আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিক দেওয়ার কথা ছিল স্নেহার। সেই কারণে ফর্ম ফিলাপের টাকা দিয়েছিল তাকে তার মা।
কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের টেস্টে পাশ করে নি স্নেহা। ফলে পরের বছর উচ্চমাধ্যমিক দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার। সেই কারণে ফর্ম ফিলাপের টাকার দরকার ছিল না। তবে সেই ফর্ম ফিলাপের টাকা আর মাকে ফেরত দেয়নি স্নেহা। সেই টাকা দিয়ে বিরিয়ানি কিনে আনে সে। ছোটো থেকেই বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসত স্নেহা।
সেই বিরিয়ানি কেনা নিয়েই মায়ের সঙ্গে ঝামেলা হয় তার। এরপরই গলায় ফাঁস দিয়ে আ’ত্ম’ঘা’তী হয় সে। জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার কাজে গিয়েছিলেন স্নেহার মা। বোনও ছিল না বাড়িতে। আর বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে গলায় ফাঁস দেয় স্নেহা, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
তার মা কাজ থেকে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা খোলা। এরপরই মেয়েকে ওরকম বীভৎস অবস্থায় দেখেন তিনি। চিৎকার করতে থাকেন স্নেহার মা। ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। স্নেহাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খবর দেওয়া হয় নরেন্দ্রপুর থানায়।
এই ঘটনায় স্নেহার আত্নীয় বলেন, “রেজাল্ট বের হতে দেখা যায় ওর লিস্টে নাম নেই। সেটা বাড়িতে বলেনি। উল্টে ফর্ম ফিলাপের জন্য টাকাও নিয়েছিল। মা বারবার রেজাল্ট নিয়ে জিজ্ঞেস করতে ও বলে পাশ করেছি। তারপর বাড়িতে আর কেউ ছিল না। ও একাই ছিল। তখনই এই ঘটনা ঘটিয়েছে”।
তাদের এক প্রতিবেশী জানান, “সব তো ভালই ছিল। আমচকা এটা ঘটে যায়। ও যে টেস্টে অ্য়ালাউ হয়নি এটা আমরা জানতাম না। বাড়ি থেকে ফর্ম ফিলাপের টাকাও নিয়েছিল। কেউ কিছু বুঝতেই পারেনি। এদিকে ওর মা ছাড়া কেউ নেই। যখন এটা ঘটে তখন ওর মা ডিউটিতে গিয়েছিল। রেলে চাকরি করেন উনি। বাড়ি ফিরে এসে দেখেন এই কাণ্ড”।





