রাজ্যে কি ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে ভেদাভেদ করা হচ্ছে? একাধিক অভিযোগ ঘিরে ফের বিতর্ক তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি, শর্ত, নিয়মের বেড়াজাল ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, অথচ অন্য সম্প্রদায়ের উৎসবে এইসব বিধিনিষেধ কার্যত অনুপস্থিত। প্রশ্ন উঠছে, কেন এক পক্ষের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি, অন্য পক্ষের জন্য প্রশাসনের নীরব সম্মতি?
এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জন, কালীপুজোতে সাউন্ডবক্সের বিধিনিষেধ কিংবা রামনবমীর শোভাযাত্রা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে আয়োজকদের। অথচ অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় এই ধরনের নিয়ম পালন হয় কি? অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে শিথিল নীতি গ্রহণ করছে, যা ধর্মীয় সাম্যের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতি ঘিরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
সম্প্রতি কলকাতার নিউটাউন এলাকায় শবে বরাত উপলক্ষে রাস্তায় নেমে বাইক র্যালি, আতশবাজি ফাটানো এবং উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজানোর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নিউটাউনসহ পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার, খিদিরপুরের মতো এলাকাগুলিতে গভীর রাত পর্যন্ত বেপরোয়া বাইক স্টান্ট চলে, যা জনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। অথচ, একই সময়ে হিন্দু উৎসব পালনের জন্য একাধিক বিধিনিষেধ চাপানো হয়।
বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে রামনবমী পর্যন্ত বিভিন্ন হিন্দু উৎসবে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়, এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু শবে বরাতের রাতে কি সেই একই নিয়ম কার্যকর ছিল? কেন এত ছাড় দেওয়া হলো? এই প্রশ্ন তুলে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছে, “এই রাজ্যে হিন্দুদের উৎসব করতে গেলে অনুমতির বাধ্যবাধকতা, কিন্তু অন্য সম্প্রদায়ের জন্য সব কিছুই উন্মুক্ত।”
আরও পড়ুনঃ ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতি? সাইকেল না পেয়ে বঞ্চিত পড়ুয়ারা, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শয়ে শয়ে সাইকেল!
তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করেছে এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ভিডিও এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেনি ‘খবর ২৪x৭’।





