“ভোটের যন্ত্র বানানো হয়েছে”, মুর্শিদাবাদে বিস্ফো*রক সুর ওয়েইসির, হুমায়ুনকে সামনে রেখে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আ*ক্রমণ!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান যত এগোচ্ছে ভোটের দিকে, ততই বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। পুরনো জোট, পুরনো সমর্থনের ধারা, সবকিছুই যেন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন ভোটাররা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় সভা, পাল্টা সভা, আর তার মাঝেই উঠে আসছে একাধিক নতুন বার্তা। এই পরিবর্তনের আবহেই সংখ্যালঘু রাজনীতিকে ঘিরে নতুন এক জোটের উপস্থিতি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

এই নতুন সমীকরণের কেন্দ্রে রয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েইসি। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের নওদার ডুবতলা ময়দানে তাঁদের যৌথ সভা রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। গত ২৫ মার্চ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এই প্রথম বড় মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেল দুই নেতাকে, যা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

সভামঞ্চে উঠে ওয়েইসি অতীতের ভোট রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে কখনও কংগ্রেস, কখনও বামফ্রন্ট, আবার গত পনেরো বছর ধরে তৃণমূলকে সমর্থন করেও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু সমাজকে বারবার শুধুই ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই কারণেই এবার নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে হুমায়ুন কবীরকে জেতানোর ডাক দেন তিনি, যাতে সমাজের ভিতর থেকেই নেতৃত্ব উঠে আসে।

এই সভা থেকেই সরাসরি আক্রমণ শোনা যায় তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদী, দু’জনকেই একসঙ্গে নিশানা করেন ওয়েইসি। ‘ভোট কাটার’ অভিযোগের জবাবে তিনি পাল্টা ইতিহাসের প্রসঙ্গ তোলেন এবং বলেন, অতীতের নানা ঘটনায় রাজনৈতিক অবস্থান বদলের নজির রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ভোটারদের উচিত অতীতকে মনে রেখে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া।

আরও পড়ুনঃ শ্যুটিং চলাকালীন অভিনেত্রীকে কেরাভানে ডেকে নিয়ে যৌ*ন হেন’স্থা! পুলিশের হাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত পরিচালক! এই ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক ফের আলোচনায়!

সবশেষে, সভার মূল বার্তাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর আহ্বানে। আসন্ন ভোটে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন তিনি, যাতে মানুষ ভয় বা চাপে নয়, নিজের মত অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন। একই সঙ্গে তৃণমূলকে ‘কোল্ড স্টোরেজে’ পাঠানোর ডাকও দেন তিনি। শুধু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নয়, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই জোট একসঙ্গে লড়াই করবে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, এই সমীকরণ সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles