কলকাতা মানেই সংস্কৃতির স্পন্দন, থিয়েটারের আলো আর শিল্পচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস। বহু শিল্পীর কাছে এই শহর এক বিশেষ আবেগের জায়গা। কিন্তু সেই শহরকে ঘিরেই এবার উঠছে বিতর্কের ঝড়। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী ও সাংসদের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, শিল্পের মঞ্চ কি সত্যিই সকলের জন্য সমানভাবে খোলা?
সম্প্রতি এক্স মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হেমা মালিনী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে তিনি কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। একজন সাংসদ ও শিল্পী হিসেবে এই পরিস্থিতি তাঁর কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছেন। সেখানে ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাঁর কথায়, শুধু তিনি নন, আরও অনেক শিল্পী এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে তাঁদের জীবিকা ও সৃজনশীলতার ওপর।
হেমা মালিনী আরও জানান, গত ১৫ মার্চ তাঁর কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে থিয়েটার দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাংসদ বলেই এই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিল্পীর পরিচয় কি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে গৌণ হয়ে যাচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ “ভোটের যন্ত্র বানানো হয়েছে”, মুর্শিদাবাদে বিস্ফো*রক সুর ওয়েইসির, হুমায়ুনকে সামনে রেখে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আ*ক্রমণ!
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ জানিয়েছেন, শিল্পী হিসেবে হেমা মালিনীকে সবসময়ই স্বাগত। তবে তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের শীর্ষ নেতারা যখন নিয়মিত পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, তখন হেমা মালিনীর ক্ষেত্রেও কোনও বাধা থাকার কথা নয়। ফলে এই ইস্যু এখন শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গিয়েছে।





