তারাপীঠে গেলে আর দেখা মিলবে না মা তারার, মায়ের মূর্তি সরিয়ে দেওয়া হল অন্য মন্দিরে, কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত?

রাজ্য বা দেশ তো বটেই, বিদেশেও তারাপীঠ মন্দিরের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে রয়েছে। এই মন্দিরে প্রতিদিনই ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। আর শনি-মঙ্গলবার বা বিশেষ কোনও দিন হলে আর কথাই নেই। সারাদিন চলে বিশেষ পুজো আর ভক্তদের ঢল নামে মন্দিরে। এই মন্দিরে মন থেকে কেউ যদি প্রার্থনা করেন, তাহলে মা তাঁকে খালি হাতে ফেরান না, এমন বিশ্বাসই প্রচলিত রয়েছে।

তারাপীঠের মন্দিরে নেই মা তারা

কিন্তু এবার তারাপীঠের মন্দিরে গেলে যে আর মা তারার দর্শন পাবেন না ভক্তরা। আসলে তারাপীঠের মন্দিরের গর্ভগৃহ সংস্কার করা হচ্ছে। সেই কারণেই মা তারা মূর্তি স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারাপীঠের ভৈরবের মন্দিরে আদি মূর্তি-সহ তারা মায়ের মূর্তি স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ওই ভৈরবের মন্দিরেই থাকবেন মা তারা।

কী জানাল মন্দির কর্তৃপক্ষ?

মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, গর্ভগৃহ ও বেদি সংস্কারের পাশাপাশি মন্দিরে রঙও করা হবে। সেই কারণেই তারা মায়ের মূর্তি স্থানান্তরিত করা হল। করোনাকালে গর্ভগৃহ সংস্কার করা যায়নি। তাই এবার গর্ভগৃহ ও বেদি সংস্কার করা হচ্ছে। 

এই তারাপীঠ মন্দির হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মস্থান। সকলে বলে, কেউ যদি সত্যিই সৎ হয়, তাহলে সে পৃথিবীর যে কোনও স্থানে থাকুক না কেন বা যে ধর্মই পালন করুক না কেন, মা তারার আশীর্বাদ সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকবে। সমস্ত আশা পূরণ করবেন মা তারা। সেই ব্যক্তির মনের সমস্ত যন্ত্রণা দূর হবে।

এই এখানেই রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার সমাধিমন্দির। এই মন্দিরেই পুজো করতেন বামক্ষ্যাপা। মন্দির লাগোয়া শ্মশানক্ষেত্রে বাবা কৈলাসপতি নামে এক তান্ত্রিকের কাছে তন্ত্রসাধনা করতেন তিনি। মা তারার আরাধনা এবং পুজোতেই বামাক্ষ্যাপা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তারাপীঠ মন্দিরের কাছেই রয়েছে সেই আশ্রম। 

তারাপীঠ কী সতীপীঠ?

তারাপীঠ মন্দির নিয়ে অনেক বিশ্বাস কথিত রয়েছে। অনেকেই বলেন, তারাপীঠ সতীপীঠ নয়। সতীপীঠ হল বীরভূমেরই কঙ্কালীতলা। আবার অনেকের মতে, তারাপীঠে সতীর তৃতীয় নয়ন পতিত হয়েছিল। ঋষি বশিষ্ঠ তা প্রথমে দেখেছিলেন। তারপর তিনি সতীকেই মা তারা রূপে পুজো করেছিলেন।

RELATED Articles