থানায় বিচার চাইতে গিয়ে উল্টে নিগৃহীত IIT প্রাক্তনী! পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!

যেকোনো সমস্যায় পড়লে সাধারণ মানুষ প্রথমেই পুলিশের শরণাপন্ন হন। চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে গেলে আমরা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাই। আশা করি, আইন আমাদের পক্ষে কাজ করবে, সুরক্ষা দেবে। কিন্তু যদি অভিযোগ জানাতে গিয়েই উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয়? থানাই যদি ভয়ের জায়গা হয়ে ওঠে? সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এমনই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী ও গবেষক ডক্টর ইমন কল্যাণ অভিযোগ করেছেন, থানায় গিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল চরম ভয়ঙ্কর। ব্যাঙ্কের পাসবুক হারানোর জন্য সাধারণ জিডি করাতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাহায্যের বদলে তাঁকে থানার ভিতরেই হেনস্থা হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

ডক্টর ইমন কল্যাণ জানান, তিনি থানায় গিয়ে ব্যাঙ্কের পাসবুক হারানোর অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু থানার ডিউটি অফিসার তাঁকে ব্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলেন, যা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এটা জানানো সত্ত্বেও অফিসার কোনও সাহায্য করতে রাজি হননি। উল্টে শুরু হয় তর্কাতর্কি। এরপর থানার এক পুলিশ অফিসার তাঁকে আলাদা একটি ঘরে নিয়ে যান। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো এবার সমস্যা মিটবে। কিন্তু সেই ঘরে ঢুকতেই আচমকা তাঁকে মারধর করা শুরু হয়! তাঁর ব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কিছুক্ষণ পরে আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী এসে তাঁকে লকআপের পাশে বসিয়ে রাখেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ধরনের দুর্ব্যবহার তিনি কোনওভাবেই কল্পনা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত? মহম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে ক্ষমতা নেবে সেনাবাহিনী?

খবর পেয়ে ইমন কল্যাণের বাবা-মা থানায় গেলে, তাঁদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। পরে থানার আইসি এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং তখনই জিডি নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার, হয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। থানার ভিতরে একজন সাধারণ মানুষকে মারধর করার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

একজন গবেষকের সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নই ঘুরছে ডোমকলের মানুষদের মনে। অনেকেই বলছেন, পুলিশের দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ভয় দেখানো নয়। ডোমকল থানার আইসি পার্থসারথী মজুমদার জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সত্যিই কি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি সব ধামাচাপা পড়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles