ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি রাশাদ আল-আলিমি কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেছেন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেনের সরকার। ভারতীয় নাগরিক নিমিশা প্রিয়ার এই শাস্তি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নিমিশা প্রিয়া, কেরলের পলক্কড় জেলার বাসিন্দা, একজন দক্ষ নার্স ছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি ইয়েমেনে বসবাস করতেন। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী এবং মেয়ে ভারতে ফিরে এলেও প্রিয়া ইয়েমেনেই থেকে যান। সেখানে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয়দের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, কিন্তু কিছু ঘটনা তাঁর জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের নাগরিক তলাত আবদো মেহদির সঙ্গে প্রিয়ার পরিচয় হয়। মেহদি তাঁকে একটি ক্লিনিক খোলার প্রস্তাব দেন। ইয়েমেনের আইন অনুযায়ী, কোনও বিদেশি নাগরিককে স্থানীয় কারও সঙ্গে পার্টনারশিপে ক্লিনিক খুলতে হয়। মেহদির সাহায্যে প্রিয়া একটি ক্লিনিক খোলেন। কিন্তু পরে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। মেহদি প্রিয়ার পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে আটকে রাখে এবং নিজেদের সম্পর্ককে ভিন্নভাবে প্রচার করে।
মেহদির অত্যাচার এবং পরিস্থিতির চাপে প্রিয়া শেষমেশ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও মেহদি গ্রেফতার হয়, পরে সে জামিনে মুক্তি পায়। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই, পরিস্থিতির চাপে প্রিয়া মেহদিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য ইনজেকশন দেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নিজের পাসপোর্ট ফিরে পেয়ে ভারতে ফেরা। তবে ইনজেকশনের ওভারডোজে মেহদির মৃত্যু হয়। এরপর প্রিয়া মেহদির দেহ টুকরো টুকরো করে ক্লিনিকের ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ কর্কট রাশিতে ধনলক্ষ্মী রাজযোগ, মেষ ও কন্যার জন্য বড় সুযোগ!
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ২০১৮ সালে নিমিশা প্রিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর, সম্প্রতি ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন দিয়েছেন। প্রিয়ার এই ঘটনা ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে গভীর দুঃখ এবং ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।





