একুশের লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেস জোটে শামিল  পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট

দীর্ঘদিনের চাপানউতোর শেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন আলিমুদ্দিনে জোট বৈঠক শেষে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘোষণা করলেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটে শামিল হচ্ছে পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টও।

তাঁরা দাবি করে জানিয়েছেন ২১শের নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেই লড়বে বাম কংগ্রেস এবং আইএসএফ।

তবে উল্লেখ্য আব্বাসের তরফে আজকের সাংবাদিক বৈঠকে কেউ হাজির ছিলেন না। তাছাড়া, কোন অঙ্কে তিন শিবিরের আসন সমঝোতা হচ্ছে, সেটাও ঘোষণা করেনি জোট শিবির।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে,বেশ কিছুদিন ধরেই বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা চলছিল যে বাম-কংগ্রেসের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ জোটে শামিল হতে পারে ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। এর আগে জোটে যোগ দিতে চেয়ে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিজ উদ্যোগে চিঠিও লিখেছিলেন আব্বাস সিদ্দিকি। পরে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের তরফে চিঠি লেখা হয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকেও।

তিন পক্ষের একত্রে লড়ার ইচ্ছা থাকলেও এই জোটের অন্যতম কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন সমঝোতা। সূত্রের খবর, বাম-কংগ্রেস জোটের কাছে আব্বাস যে সংখ্যক আসন দাবি করেছেন, জোট নেতৃত্ব সেই পরিমাণ আসন আব্বাসের হাতে তুুলে দিতে কোনওভাবেই রাজি নয়। জটিলতা তৈরি হয়েছিল আব্বাসের দল যে যে আসন দাবি করেছে, তা নিয়েও। সূত্রের দাবি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের বেশ কিছু আসনে লড়তে চেয়েছে।

উল্লেখ্য, এই আসনগুলিই আবার কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত। কংগ্রেস এই আসনগুলি ছাড়তে রাজি নয়। এইসব জটিলতা কাটাতেই মঙ্গলবার সরস্বতী পুজোর দিন বৈঠকে বসে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। বৈঠকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, প্রদেশ কংগ্রেস অধ্যক্ষ অধীর চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাম ও কংগ্রেসের একাধিক নেতা। ভার্চুয়ালি আজকের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন আব্বাস সিদ্দিকির ভাই নওসাদ সিদ্দিকিও।

বৈঠক শেষে আসন বাঁটোয়ারা নিয়ে এই জটিলতা অব্যাহত রেখেই বিমান বসু, অধীর চৌধুরীরা ঘোষণা করে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়াই করবে বাম ও কংগ্রেস। অধীর দাবি করলেন, ইতিমধ্যেই বাম এবং কংগ্রেস নিজেদের মধ্যে আসন রফা সেরে ফেলেছে। তবে, তা এখন ঘোষণা করা হচ্ছে না। কারণ, এই আসন রফা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন আইএসএফ, এনসিপি, আরজেডির মতো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি জোটের উপর আস্থা দেখিয়েছেন। তাই এই ছোট দলগুলি যাতে সম্মান পায়, তা নিশ্চিত করতেই আগেভাগে নিজেদের ভাগের আসনের সংখ্যা ঘোষণা করতে চাইছে না জোট নেতারা। 

RELATED Articles