স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখেই ছুঁড়ে ফেলে দিলেন চিকিৎসক, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের বিধায়কের

রাজ্যের সব হাসপাতাল ও নার্সিং হোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতে বাধ্য, এমনই নির্দেশ জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এরপর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখে তা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই তা নিয়ে সরব হন অঞ্চলের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। এরপর ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে প্রতিমা প্রধান নামের এক মহিলা জরায়ুর টিউমারের জন্য চিকিৎসক প্রদীপ করণের কছে যান। চিকিৎসক জানান দ্রুত অপারেশন করতে হবে এবং এর জন্য খরচ ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু সে টাকা জোগাড়ের ক্ষমতা ছিল না প্রতিমাদেবী বা তাঁর পরিবারের। এই কারণে তিনি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। অভিযোগ, এই কার্ড দেখেই তা মুখের উপর ছুঁড়ে দেন ওই চিকিৎসক।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ১০ কোটি মানুষকে সরকারী স্বাস্থ্যবিমা পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন আর সেই রাজ্যেরই এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনা চাউর হতেই স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ জানান বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। প্রশাসনের তরফে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবী, তিনি কার্ড মুখের উপর ছুঁড়ে ফেলেননি। তিনি বলেছিলেন যে তিনি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করতে বাধ্য নন। তাঁর কথায়, কোনও চিকিৎসকের চেম্বারে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতেই হবে, এমন কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন যে সরকার থেকে যদি নির্দেশ আসে যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই তাঁকে চিকিৎসা করতে হবে, তাহলে তিনি করবেন।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিমা প্রধানকে সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাসসকদলকে কটাক্ষ করতে বাদ রাখেনি বিজেপি। তাদের কথায়, তাদের তরফে আগেই বলা হয়েছিল যে এই কার্ডে চিকিৎসা হবে না।

RELATED Articles