শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার পর এবার যাদবপুরে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন! ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতা?

কলকাতা (kolkata) শহর যেন বারবার সাক্ষী হচ্ছে এক অদ্ভুত বাস্তবতার। যে শহর স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যে শহর বুদ্ধিজীবিতার আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত, সেখানেই কি না স্বাধীনতার দাবি ওঠে! ইতিহাস সাক্ষী, এই শহর বহু আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, কখনো শ্রমিকের অধিকারের দাবিতে, কখনো রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তবে সেই আন্দোলনের ভাষা বদলেছে, বদলেছে বিষয়ও। এক সময় যে শহরে প্রতিবাদের ভাষা ছিল মানবাধিকারের পক্ষে, সেখানে এখন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্লোগান! কীভাবে বদলে গেল এই ছবি? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বহু মানুষের মনে।

ক্যাম্পাস আন্দোলনের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে এখন। এক সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিত ছিল তার একাডেমিক উৎকর্ষ ও স্বাধীন চিন্তার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি যেন এক নতুন বার্তা দিচ্ছে—ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বন্দ্ব শুধু মতবিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সংঘাতে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপর হামলার ঘটনা হোক বা ছাত্রদের মধ্যে মতানৈক্যের জেরে সংঘর্ষ, সবই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে—শিক্ষার পরিসর যেন ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের কাছে একটি বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে দেখা গেছে, বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘আজাদ কাশ্মীর’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’। যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের দাবি, এটি নতুন কিছু নয়, বহুদিন ধরেই এমন লেখা ক্যাম্পাসে দেখা যায়। তবে এবারে বিষয়টি সামনে এসেছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে। শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই যাদবপুরের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে, আর এই দেওয়াল লিখন যেন সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। কেউ বলছেন, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচার, আবার কেউ মনে করছেন, এটি ছাত্র আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুনঃ যাঁর কলমে তোলপাড় হয়েছিল বাংলা রাজনীতি, মমতাকে নিয়ে বিতর্কিত বইয়ের সেই লেখক দীপক ঘোষ আর নেই!

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সভাপতি কিশলয় রায় অভিযোগ করেছেন, ‘‘এই দেওয়াল লিখন নিয়ে বহুবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অতিবাম এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর কাজ এটা।’’ অন্যদিকে, এনএসএফের নেতা সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসে বাম-মনোভাবাপন্ন না হলেই জিবি-র (জেনারেল বডি) নামে আপনাকে বয়কট করা হয়। এভাবে এক ধরনের খাপ পঞ্চায়েতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’ তবে ক্যাম্পাসের বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

এসএফআই নেতা অভিনব বসু বলেন, ‘‘আমরা কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্মকে সমর্থন করি না। তবে ফ্রি প্যালেস্তাইনের সমর্থন করা বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়। বরং বিজেপি শাসিত ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিবাদ করাটাই জরুরি।’’ তবে আসল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ক্যাম্পাস কি সত্যিই একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষের মঞ্চ হয়ে উঠছে, নাকি এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ?

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর