গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সঠিক ভোটার তালিকা অপরিহার্য। ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম বা দ্বৈত নামের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভুয়ো ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষণীয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সারা রাজ্যে ভুয়ো ভোটার শনাক্তকরণের অভিযান শুরু হয়েছে। দলীয় কর্মীরা ভোটার তালিকা হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সঠিক ভোটারদের নিশ্চিত করা এবং ভুয়ো ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের ডোমকলের সালামপুর এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বসির মোল্লার নাম দুটি ভিন্ন ভোটার তালিকায় পাওয়া গেছে। একটি তালিকায় তিনি কলাবেড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার, যেখানে তাঁর একটি ভোটার কার্ড রয়েছে। অন্যদিকে, বেনিয়াখালি এলাকার পঞ্চাননপুরেও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে এবং সেখানেও একটি পৃথক ভোটার কার্ড রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর উপর হামলার পর এবার যাদবপুরে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন! ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতা?
এই অভিযোগের পর বসির মোল্লা জানান, তিনি ১৯৯৬ সালে সালামপুরে চলে আসেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বেনিয়াখালির ভোটার তালিকায় তাঁর নাম কীভাবে রয়ে গেছে, তা তিনি জানেন না। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাদের দাবি, যদি তালিকায় কোনো ভুল থেকে থাকে, তা সংশোধনের দায়িত্ব কমিশনের, কোনো ভোটারের নয়। বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, রাজ্য সরকারি আধিকারিকরা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করেন এবং জেনে-বুঝে তৃণমূল নেতার নাম দুটি ভোটার তালিকায় রেখেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বসির মোল্লার বিরুদ্ধে পূর্বেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বুথের সামনে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এবং সে সময় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।
এই ঘটনা ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভুয়ো ভোটার শনাক্তকরণে রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত, তবে তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। নির্বাচন কমিশনেরও উচিত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।





