ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুন নতুন বিতর্ক সামনে আসছে রাজ্যের রাজনীতিতে। এবার সেই উত্তেজনার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। সম্ভাব্য গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে একাধিক মিথ্যা মামলা এবং এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষা চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
জানা গিয়েছে, সোমবার হাই কোর্টে জাহাঙ্গিরের আইনজীবীরা আবেদন জানান যে, ভোটের আগে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূল প্রার্থী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলার আবেদন গ্রহণ করেন এবং বিষয়টির শুনানির অনুমতি দেন। আদালতে জাহাঙ্গিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা রয়েছে এবং কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য রাজ্য সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজানো হচ্ছে। তাই পুনর্নির্বাচনের আগে যাতে তাঁকে হেনস্তা করা না হয়, সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ কয়েকদিন আগেই ফলতায় সভা করতে এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জাহাঙ্গিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। সভা থেকে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ভোট মিটে যাওয়ার পর জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, সেই বক্তব্যের পরেই বাড়তি সতর্ক হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। যদিও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, আইন আইনের পথেই চলবে এবং কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই বিরোধীরা জাহাঙ্গিরকে নিশানা করছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে জাহাঙ্গির খান একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিধানসভা ভোটের সময় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎকালীন পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর সংঘাতও শিরোনামে উঠে এসেছিল। সেই সময় নিজের অবস্থান বোঝাতে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, “উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা, ঝুঁকেগা নহি।” সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর ‘পুষ্পা’ নামটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে যায়। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, ফলতা এবং ডায়মন্ড হারবার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দাপটের রাজনীতি, বুথ দখল, সন্ত্রাস এবং তোলাবাজির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। যদিও জাহাঙ্গির বরাবরই এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুনঃ প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় অরিজিৎ, গায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মানের বার্তা দিলেন গায়ক আদনান সামি
পুনর্নির্বাচনের আগে ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উত্তপ্ত। নির্বাচন কমিশন আগের ভোট নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় আদালতে জাহাঙ্গিরের আবেদন নতুন মাত্রা যোগ করেছে গোটা ঘটনায়। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং সাধারণ মানুষই ভোটে তার জবাব দেবেন। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছে, ভোটের আগে আইনি সুরক্ষার আবেদন আসলে রাজনৈতিক চাপ এড়ানোর কৌশল। সব মিলিয়ে ফলতার পুনর্নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক দিনে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতির।






