‘আর কতদিন দাঁড়িয়ে থাকবে বেআইনি নির্মাণ, ৫টা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রমাণ দিন তো’, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতি সিনহার

Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue: বিগত কয়েকমাস ধরেই রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নানান চাপানউতোর তো চলছেই। এর মধ্যে রাজনৈতিক রঙও লেগেছে। একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। ফলে এবার রাজ্যের উপর প্রবল ক্ষোভ বর্ষণ করলেন বিচারপতি (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)

অভিযোগ উঠেছিল, পূর্ব কলকাতায় জলাভূমি বুজিয়ে বহুতল, নানান বাড়ি এমনকি রিসোর্টও তৈরি করা হয়েছে। আজ, বুধবার এই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে সেই জায়গা ফের আগের রূপে ফেরাতে হবে অর্থাৎ বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)। আগামী ৩১ জুলাই এই কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে ওয়েট ল্যান্ড অথরিটিকে, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই বেআইনি নির্মাণের নানান জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে সিইএসসি ও পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। কোথায় কোথায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে, সে সমস্ত খতিয়ে দেখতে হবে এই দুই সংস্থাকে। এরপর সেই সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।   

প্রশাসনের কাজে বেশ ক্ষুব্ধ বিচারপতি সিনহা (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)। এদিন সওয়াল-জবাবের সময় প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। বলেন, “এতদিন ধরে কী করেছে প্রশাসন? কোনও আংশিক কাজ নয়, সামগ্রিকভাবে কী করেছেন ডিএম? ভাঙা কী শুধু কাগজ কলমে হয়েছে? ওই জলাভূমিকে আগের অবস্থায় ফেরাতে হবে। এতদিন ধরে কি করছে প্রশাসন?  আর কতদিন এই সব বেআইনি নির্মাণ দাড়িয়ে থাকবে” (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)?

এদিন জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি সিনহা (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)। তাঁর কথায়, “ডিএম উদাসীন আচরণ করছেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি”। তিনি এও বলেন, “জেলাশাসক যদি এগিয়ে না আসেন তাহলে এই বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হবে না। মানছি, সেখানে অনেক ক্ষোভ-বিক্ষোভ,হবে। কিন্তু চেষ্টা না করলে কিছু হবে না”।

এদিন রাজ্য জানায়, বিগত কয়েকমাসে ভালোই কাজ এগিয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীর দাবী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বেশ কিছু বাড়ি ভাঙা হয়েছে। ৫০০-এর বেশি বেআইনি বাড়ি রয়েছে সেখানে। পুরসভা ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে। কিন্তু মামলাকারীর দাবী, প্রথম যে বিল্ডিঙটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, সেটাতে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি।

এদিন বিচারপতি তা শুনে  বলেন, “আপনারাই ৫০০ এর বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করেছেন। অন্তত পাঁচটা ভাঙার প্রমাণ দিন” (Justice Amrita Sinha Expressed Anger on Illegal Construction Issue)। বিচারপতির স্পষ্ট কথা, “ওই জলাভূমি আগের অবস্থায় ফেরাতেই হবে। গয়ংগচ্ছ মনোভাব আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না। এবার থেকে এই মামলার লাগাতার শুনানি করব”।

RELATED Articles