কোন জাদুবলে প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর ৪০ থেকে হয়ে গেল ১০? গ্রুপ সি মামলায় কমিশনের হলফনামা দেখে হতবাক বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে এখন রাজ্য সরগরম। প্রতিদিনই কোনও না কোনও নয়া তথ্য মিলছে এই মামলায়। গ্রুপ সি মামলায় আদালতে হলফনামা পেশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। আর সেই হলফনামা দেখে কার্যত চমকে উঠলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

এই হলফনামায় দেখা গিয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী সংস্থা NYSA-এর সার্ভারে এক প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর রয়েছে ৪০। কিন্তু কমিশনের সার্ভারে সেই প্রার্থীর নম্বর ১০। একই প্রার্থীর নম্বরে এতটা গরমিল কীভাবে হতে পারে, তা দেখে বিস্মিত হয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, “এটা কী করে সম্ভব”?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে গাজিয়াবাদ থেকে ৩৪৭৮টি উত্তরপত্র উদ্ধার করেছিল সিবিআই। আগামী ৯ মার্চের মধ্যে এই উদ্ধার হওয়া গ্রুপ সি-দের উত্তরপত্র প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই ঘটনা ঘটনার সময় কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। ফলে তিনি এই বিষয়ে বলতে পারবেন।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অনিয়ম করে চাকরি পাওয়ার জন্য এই ১,৯১১ জনের চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তাদের প্রাপ্য বেতন ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ মামলাতেও উত্তরপত্র বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে উত্তরপত্র প্রকাশ করে এসএসসি।

এদিন গ্রুপ সি মামলায় কমিশনের পেশ করা হলফনামা দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। NYSA ও কমিশনের সার্ভারে একই প্রার্থীর নম্বর দু’রকমের কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। এর উত্তরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে জানান হয়, “সেই সময় কমিশনে থাকা ব্যক্তিরা অযোগ্যদের নিয়োগ করার জন্য এমন করে থাকতে পারে”।

এরপরই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এই দুর্নীতি নিয়ে সবথেকে বেশি বলতে পারবেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। কারণ, তিনিই সে সময় চেয়ারম্যান ছিলেন। সিবিআইয়ের উচিত এদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা”। বলে রাখি, বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য জেলবন্দি। এই মামলাতে হয়ত তাঁকে তদন্তকারী আধিকারিকরা জেরা করতে পারেন।

RELATED Articles