আজ, মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ বসুর এজলাসে। এদিন বেশ ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি বলেন যে টাকার বিনিময়ে শিক্ষকদের চাকরি দিয়ে আসলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে। বিচারপতি বলেন, “ইয়ার্কি হচ্ছে না কি? পড়ুয়াদের কথা না ভেবে কে চাকরি দিল, তা জানার সময় এসে গিয়েছে”।
এদিন বিচারপতি বসু এসএসসি-কে ভুল শোধরানোর জন্য ৭ দিন সময় দেন। তিনি বলেন, “গাজিয়াবাদ থেকে পরীক্ষার্থীদের যে উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এসএসসিকে নিজেদের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে”।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অন্তত ৪৪৮৭টি উত্তরপত্রের সন্ধান গাজিয়াবাদে পাওয়া গিয়েছে। সেই উত্তরপত্রই এসএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বসু। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে তদন্তকারী সিবিআইয়ের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “কারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তা জানতেই হবে। বিতর্কিত শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের সোজা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করুক সিবিআই”।
কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্র প্রকাশের নির্দেশ প্রথমে না দিলেও এর আগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এসএসসি-কে এই ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এবার বিচারপতি বসু একেবারে সময় বেঁধে দিলেন এসএসসি-কে। কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্নীতি যেখানে পরিষ্কার, সেখানে কেন এই ব্যক্তিদের এখনও সরিয়ে দিতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। কিসের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে”।
ইতিমধ্যেই অবৈধ নিয়োগের জেরে অনেকের চাকরি গিয়েছে এসএসসি-তে। আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি বসু বলেন, “কর্মীর অভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে, এই আশঙ্কা থেকেই কি এই অযোগ্যদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। তেমন হলে নতুন নিয়োগ করা হোক”।
এদিন এসএসসি-র কাছে বিচারপতি বসু এও জানতে চান যে যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন, তাদের সরিয়ে যোগ্যদের দ্রুত নিয়োগের জন্য এসএসসি কতটা প্রস্তুত? আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিনই বিচারপতি বসুর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এসএসসি-কে।





