রাত দখলের কর্মসূচি, মহালয়ায় ভোর দখল থেকে তিলোত্তমার জন্য বিশেষ তর্পণ, ‘উৎসবে’র মধ্যেও জারি বিচারের দাবী

আজ থেকে শুরু দেবীপক্ষ। মর্ত্যে আসছেন উমা। চারিদিক এই সময় উৎসবমুখর। আমেজটাই যেন আলাদা। কিন্তু কোথাও গিয়ে কী এবারের পুজোটা আর পাঁচটা বছরের থেকে আলাদা নয়? আর জি করের ঘটনা বারবার আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেই তরুণী নির্যাতিতা চিকিৎসক কিন্তু এখনও বিচার পায় নি। উৎসবের মধ্যেও যে মানুষ তিলোত্তমাকে ভোলে নি, তার প্রমাণ গতকালের রাত ও মহালয়ার ভোর।

মহালয়ার আগের রাতে দিকে দিকে চলল বিশেষ কর্মসূচি। আবার মহালয়ায় ভোর দখল থেকে তিলোত্তমার উদ্দেশে বিশেষ তর্পণ করলেন সাধারণ মানুষ। সকলেরই দাবী একটাই, বিচার চাই। একদিকে যখন রুবিতে মহালয়ার আগের রাতে চলে রাত দখল কর্মসূচি, ঠিক তখনই আবার ডায়মন্ড হারবার রোডের ধারে বেহালা থানার উল্টোদিকে তিলোত্তমার খুনের ঘটনা পথনাটিকা করে দেখালেন জোকার ইএসআইয়ের জুনিয়র চিকিৎসকরা।

একই ভাবে আবার দেবীপক্ষের সূচনাতেই রাত বারোটার পর মশাল জ্বালিয়ে দেবীকে আহ্বান করেন মেদিনীপুর শহরের একদল মানুষ । তিলোত্তমার বিচার চেয়ে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেগে প্রতিবাদ প্রদর্শন করলেন সাধারণ মানুষ। এই ভোর দখল প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে ভোররাতে সামিল হয়েছিলেন ভারতের যুব ফেডারেশন রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। মশাল প্রজ্জলন, পথনাটিকা, আদিবাসী নৃত্য, কবিতা, আবৃত্তি , স্ট্রিট পেন্টিং সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদে মুখর হন মেদিনীপুর শহরের মানুষ। সকলেই শপথ নেন বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এভাবেই প্রতিবাদ করে রাস্তায় থাকবেন তারা।

শ্রীরামপুরেও চিত্রটা একইরকম। দেবীপক্ষের সূচনা হয় আন্দোলনের মাধ্যমেই। মহালয়ার ভোরে ঢাক নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ দেখান মহিলারা। শ্রীরামপুর তিন নম্বর ঘাটে শেষ হয় এই মিছিল। সমাজের নানান স্তরের মানুষ যোগ দেন মিছিলে।

চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ে মহালয়ার ভোরে দেখা যায় এক অন্য ছবি। বন্ধু সমাজের ডাকে আয়োজন করা হয়েছিল এক অনন্য প্রতিবাদের। মা দুর্গার ছবিতে ধূপ-ধুনো-মোমবাতি জেলে ভোর দখলের মাধ্যমে পালন করা হয় মহালয়া। চুঁচুড়া অন্নপূর্ণা ঘাট থেকে বকুলতলা ঘাট পর্যন্ত পদযাত্রা হয়।

আলিপুরদুয়ারেও মহালয়ার ভোরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ভোর দখলের কর্মসূচি করেন নাগরিক সমাজ। ভোর ৪টে থেকে চলে এই কর্মসূচি। আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে ভোর দখলে নামেন আলিপুরদুয়ার নাগরিক সমাজ।  

RELATED Articles