‘মোবাইল দাও, চাদর দাও, খাট দাও’, জেলে একের পর এক ‘বায়না’ জ্যোতিপ্রিয়, অতিষ্ঠ করছেন প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে

রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ইডি হেফাজতে ছিলেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশে এবার তাঁর ঠাঁই হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলে। কিন্তু জেলে গিয়ে শুরু হয়েছে আরও এক কাণ্ড। সকলকে অতিষ্ঠ করে তুলছেন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একেকবার এক এক রকমের আবদার করে সকলকে বেশ বিরক্ত করছেন তিনি।

সূত্রের খবর, জেলে মেঝেতে কম্বল পেতে বিছানা করেই শুতে হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়কে। জেল কর্তৃপক্ষের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ডায়েট মেনেই খাবার দেওয়া হবে মন্ত্রীকে। সেই কারণে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে জেলে জ্যোতিপ্রিয়র জন্য বাড়ি থেকে খাবার আসবে না।

জেল সূত্রে খবর, জেলে যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনের জন্য আবদার শুরু করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। ফোনের জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন তিনি। বালুর প্রশ্ন, ফোন ছাড়া কীভাবে থাকবেন তিনি? আবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলতে চেয়েছেন মন্ত্রী। শুধু মোবাইল নয়, শোয়ার জন্যও চেয়েছেন বালিশ-চাদর। এমনকী খাটও চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জেল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোনও পরিষেবা দেওয়া হবে না তাঁকে।

শুধু তাই-ই নয়, জানা গিয়েছে, জ্যোতিপ্রিয় সমানে বলে যাচ্ছেন যে তিনি জেলে থাকবেন না। তাঁর সেলের পাশ দিয়ে কোনও রক্ষী গেলেও তাঁকে ডেকে নাকি জ্যোতিপ্রিয় বলছেন, “সুপারকে বলুন, আমার শরীর খুব খারাপ। মনে হচ্ছে বাম দিকটা পক্ষাঘাত হয়ে যাবে। প্লিজ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন”।

এটাই প্রথমবার নয়, ইডি হেফাজতে থাকাকালীনও বারবার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। বারবার তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “বামদিকটা পক্ষাঘাত হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। খুব অসুস্থ আমি। মরে যাব মনে হচ্ছে। আর বাঁচব না”।

সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্সি জেলে বর্তমানে ২২০০ জন বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এমন বন্দি রয়েছে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনেই তাদের জন্য প্রতিদিন আলাদা করে বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়। সেই খাবারই দেওয়া হচ্ছে জ্যোতিপ্রিয়কেও। তবে তাঁর জেলে না থাকতে চাওয়ার আবদার নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

RELATED Articles