রেশন দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড়! মুকুলের কাছে গচ্ছিত জ্যোতিপ্রিয়র ২০ কোটি টাকা, ‘মাসে মাসে ১০ লক্ষ টাকা দেবে মুকুলদা’, চিঠিতে লিখেছিলেন বালু

Jyotipriya Mallick Kept His Money To Mukul: রেশন দুর্নীতি নিয়ে একে একে যেন পাহাড়সম দুর্নীতির কথা সামনে আসছে। দিনদিন এক এক করে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বর্তমানে রেশন দুর্নীতিতে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এবার জানা গেল, মুকুলের কাছে নাকি ২০ কোটি টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী (Jyotipriya Mallick Kept His Money To Mukul)।

ইডি সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়ার পর এসএসকেএমে বসে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই চিঠি আসে ইডির হাতে। সেই চিঠিতে শেখ শাহজাহান থেকে শুরু করে শঙ্কর আঢ্য, বাকিবুর রহমানের কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও উল্লেখ রয়েছে মুকুলের কথা।   

জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় লেখেন, “টাকার দরকার পড়লে শাহজাহান, শংকর আঢ্য, মুকুল দেবেন। মুকুলদা মাসে মাসে ১০ লক্ষ টাকা দেবেন। এটা সুদের টাকা। প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট মুকুলের কাছেই থাকবে। সেটা কোনওমতে নেবে না” (Jyotipriya Mallick Kept His Money To Mukul)। এই মুকুল বলতে আসলে আলিফ নূর যাকে রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, ব্যাঙ্কে আমানতের উপর ৬ শতাংশ সুদের হার হয়। যদি সুদ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা মাসে মাসে দিতে বলা হয়, তাহলে সেই হিসেবে আনিসুর অর্থাৎ বিদেশ ও আলিফ অর্থাৎ মুকুল, এই দুই ভাইয়ের কাছে প্রায় ২০ কোটি টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। আনিসুর ও আলিফ যে জ্যোতিপ্রিয়কে টাকা পাঠান, সেই তথ্যও রয়েছে ইডির কছে (Jyotipriya Mallick Kept His Money To Mukul)।  

বলে রাখি, গত বৃহস্পতিবার দিনভর জেরার পর মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় দেগঙ্গার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান ও তাঁর ভাই আলিফ নুরকে। এই দু’জন রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুর রহমানের মামাতো ভাই। এর ফলে বাকিবুরের মাধ্যমেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এই দুই ভাই। জানা গিয়েছে, এই দুই ভাই নাকি ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়র ‘মানি মেশিন’। এদের থেকেই অনেক টাকা গিয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর কাছে।

ইডি সূত্রে খবর, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নগদে টাকা পাঠাতেন এই দুই ভাই। নগদ ৯৪ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। এমনকি, আনিসুররা নিজেদের সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে জ্যোতিপ্রিয়র সংস্থার অ্যাকাউন্টে ৭০ লক্ষ টাকা পাঠান বলে জানা যায়।

ইডি আরও জানায়, জ্যোতিপ্রিয়র হিসেব রক্ষক শান্তনু ভট্টাচার্যের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেইসব ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। একটি ফোল্ডারে এই দুই ভাই আনিসুর ও আলিফের নাম উল্লেখ ছিল। ১০ লক্ষ টাকা করে সুদ দেওয়ার বিষয়টিও শান্তনুর থেকে পাওয়া নথিতেই মিলেছে বলে খবর।

RELATED Articles